ফরিদপুরে ফ্ল্যাগভিত্তিক আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়ে বন্যা প্রস্তুতিমূলক মহড়া অনুষ্ঠিত

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ন, ২০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১:২৩ পূর্বাহ্ন, ২১ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম ফেজ-৩ এর আওতায় প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ আজ ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের পদ্মার চর উচ্চ বিদ্যালয়ে ফ্ল্যাগভিত্তিক বন্যা আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা বিষয়ক একটি দিনব্যাপী প্রস্তুতিমূলক মহড়ার আয়োজন করে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয় পর্যায়ে বন্যার আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ, সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।

ফরিদপুর জেলা বাংলাদেশের অন্যতম বন্যাপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রায় প্রতি বছর নিম্নাঞ্চল ও বিশেষ করে চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠী বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়। এর ফলে ঘরবাড়ি, জীবিকা এবং মৌলিক সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যার সময়কাল, গভীরতা ও তীব্রতার অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: এবার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চমক সুবর্ণা ঠাকুর

জাতীয় পর্যায়ে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় অগ্রগতি থাকলেও এখনো বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলো প্রযুক্তিগত পূর্বাভাসকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজবোধ্য ও ব্যবহারযোগ্য নির্দেশনায় রূপান্তর করা। অনেক ক্ষেত্রেই নদীর পানির উচ্চতা বা পূর্বাভাসভিত্তিক তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য পরিষ্কারভাবে বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে তারা সময়মতো কার্যকর প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হন।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ডাইনামিক ফ্লাড রিস্ক মডেল ফরিদপুরে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই মডেলটি জটিল বন্যা পূর্বাভাসকে পাঁচটি সহজ ঝুঁকি স্তরে রূপান্তর করে, যা ১ থেকে ৫টি পতাকার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়। প্রতিটি স্তরের সঙ্গে নির্দিষ্ট আগাম করণীয় পদক্ষেপ যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে জনগণ সহজেই বুঝতে পারে কখন কী ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে।

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত আসনে স্বতন্ত্র জোটের মনোনয়ন পেলেন নাজিরপুরের মেয়ে জুঁই

দিনব্যাপী এই মহড়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন। বাস্তব পরিস্থিতির অনুকরণে বিভিন্ন বন্যা পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণকারীরা তাদের দায়িত্ব ও ভূমিকা অনুশীলন করেন এবং সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সহজবোধ্য সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া জীবন ও সম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটি আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের এক কমিউনিটি প্রতিনিধি স্থানীয় অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, চরাঞ্চলের মানুষকে সময়মতো ও সহজবোধ্য সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

কারিগরি সেশনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের প্রফেসর আনিসুল হক ব্যাখ্যা করেন কীভাবে ফ্ল্যাগভিত্তিক মডেল ঝুঁকি তথ্যকে সহজবোধ্য সতর্কবার্তায় রূপান্তর করে। তিনি বলেন, প্রতিটি পতাকা স্তরের সঙ্গে পানির উচ্চতা ও সম্ভাব্য ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।

এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও ফরিদপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তারা জানান, আগাম প্রস্তুতিমূলক এ ধরনের মহড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করে।

আয়োজকরা জানান, এই ধরনের উদ্যোগ বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসকে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে সহায়তা করবে এবং বন্যাপ্রবণ এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা বাড়াবে।