গাজীপুরে এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর চেয়ারে বসলেন জামায়াতের এমপি, ছবি ভাইরাল
গাজীপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীর চেয়ারে বসলেন গাজীপুর-৪ আসনের জামায়াতের মনোনীত এমপি সালাহউদ্দিন আইয়ুবী। এমন একটি ছবি তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করার পর মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।
এ নিয়ে নেটিজেন এবং জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি কর্মকর্তার চেয়ারে বসা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।
আরও পড়ুন: পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেছেন, পাশে চেয়ার ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেই তার চেয়ারে গিয়ে বসেন। তবে সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বিষয়টি অস্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, তিনি অসত্য বলেছেন। আমাকে ফুল দেওয়ার সময় নির্বাহী প্রকৌশলী নিজেই আমাকে হাত ধরে তার চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাপাসিয়ার একটি ব্রিজের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি জানার জন্য এলজিইডির গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যান। সেখানে পাশে চেয়ার ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও এমপি সাহেব নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্ধারিত চেয়ারে গিয়ে বসেন। পরে তাকে সেখানে ফুল দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সাংসদের সাথে উন্নয়ন সংক্রান্ত আলোচনার সময় তারা কার্যালয়ে সোফায় বসে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: রূপগঞ্জে এসএসসি কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশে যুবদল নেতা আবু মোহাম্মদ মাসুম
জানা গেছে, সাক্ষাতের পর সালাহউদ্দিন আইয়ুবী তার নিজের ফেসবুক আইডিতে এ সংক্রান্ত একাধিক ছবি পোস্ট করলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তার চেয়ারে বসা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। জেলা সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সরকারি চাকরিবিধি-২ এর ‘ক’ মতে অফিসিয়াল আচরণে উল্লেখ রয়েছে, অনুমতি ছাড়া বসা: ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তার চেয়ারে বসা বা বহিরাগত কাউকে বসালে তা অনিয়ম হিসেবে গণ্য হয়।
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান আরও বলেন, পূর্ব নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনুযায়ী গাজীপুরের কাপাসিয়া আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আমার অফিসে আসেন। এ সময় আমরা তাকে ফুল দেওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকার ফাঁকে তিনি নিজেই আমার চেয়ারে বসে পড়েন। পরে তিনি ছবি তুলে আবার সোফায় বসে আমার সাথে আলোচনা করেন।





