চট্টগ্রামে এনসিপির মহানগর সদস্য সচিবসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)'র চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সদস্য সচিব আরিফ মঈনউদ্দিনসহ ৬ জন এনসিপি নেতা এবং অজ্ঞাতনামা ২ জনসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে (প্রাক্তন সাইবার সুরক্ষা আইন) মামলা দায়ের করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও উসকানিমূলক তথ্য প্রচারের অভিযোগে দলটির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির এক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এই মামলাটি করেন।
বুধবার (২০ মে) চট্টগ্রাম আদালতে মামলাটি দায়ের করা হলে আদালত তা গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মার্কিন বিশেষ দূত, শুনলেন শরণার্থীদের সংকট ও প্রত্যাবাসনের দাবি
মামলার বাদী হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ নিজেকে এনসিপি'র চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, উসকানিমূলক ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়েছেন। মামলার আর্জিতে বলা হয়, এসব বিভ্রান্তিকর পোস্টের কারণে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে এবং বাদীর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজ্জাদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, "আদালত বাদীর আর্জি আমলে নিয়েছেন এবং বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছেন।"
আরও পড়ুন: ফেনীর সংঘর্ষ মামলায় রাজধানী থেকে গ্রেফতার বিএনপি নেতা আলমগীর
মামলার প্রধান আসামি আরিফ মঈনউদ্দিন সম্প্রতি ঘোষিত এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। মামলায় তাঁর পাশাপাশি এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল হক টিপু, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হুজ্জাত উল্লাহ আবির, জাতীয় ছাত্র শক্তির সংগঠক সাদিক আরমান, সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব সজীব ভূঁইয়া এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাইনুল হোসেনসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদী হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ বলেন, "ব্যক্তিগতভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রাসঙ্গিক পোস্টগুলোর স্ক্রিনশট, লিংক এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল প্রমাণাদি আমরা আদালতে জমা দিয়েছি। আশা করি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক সত্য উদ্ঘাটিত হবে এবং আমি ন্যায়বিচার পাব।"
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য মামলার প্রধান আসামি আরিফ মঈনউদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মামলার অপর আসামি এনসিপি'র চট্টগ্রাম নগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল হক টিপুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সাথে তিনি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন।"





