প্রস্তাবিত শেরপুর মেডিকেল কলেজের জায়গা পরিদর্শন

Sanchoy Biswas
রাকিবুল আওয়াল পাপুল, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৪৫ অপরাহ্ন, ০৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৮:২৭ অপরাহ্ন, ০৮ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রস্তাবিত শেরপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের লক্ষ্যে নির্ধারিত সম্ভাব্য স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।

আজ সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও পরিদর্শন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফারুক আহম্মদের নেতৃত্বে পরিদর্শন দল শেরপুর সদরের বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত ছয়টি স্থান ঘুরে দেখেন।

আরও পড়ুন: বাংলাবাজার পত্রিকার রিপোর্টের জের: বড়লেখার চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের আসামি গ্রেফতার

পরিদর্শনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল হক, জামালপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, বিএমডিসি মনোনীত অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের প্রতিনিধি মো. মকবুল হোসেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. ওয়াসেক-বিন-শহীদ, শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন, জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেলিম মিয়া, প্রেসক্লাব সভাপতি কাকন রেজাসহ জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের জন্য মোট ছয়টি স্থান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নৌহাটার খোয়ারপাড়, শেরপুরের ঢাকলহাটি, নৌহাটার অর্কিড এলাকা, শেরীব্রিজ-লছমনপুর পূর্বপাশ, শেরীব্রিজ-লছমনপুর পশ্চিমপাশ এবং মোবারকপুরের ইছলিবিল এলাকা।

আরও পড়ুন: শ্রীপুরে আ’লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র আনিছের জানাজায় মানুষের ঢল

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, নৌহাটা খোয়ারপাড় এলাকার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ২১৩ কোটি ৫৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। নৌহাটার অর্কিড এলাকার সম্ভাব্য মূল্যও একই। ঢাকলহাটি এলাকার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৩০৪ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শেরীব্রিজ-লছমনপুর পূর্বপাশ এলাকার সম্ভাব্য মূল্য ৮০ কোটি ৭৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা এবং পশ্চিমপাশ এলাকার সম্ভাব্য মূল্য ৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। মোবারকপুরের ইছলিবিল এলাকার সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “কোন জায়গায় প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজটি করলে সবচেয়ে সুন্দর ও ভিজিবল হবে, লেখাপড়ার পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান সহজ হবে, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে। আমরা জায়গাগুলো পরিদর্শন করেছি। পরিদর্শন শেষে আমাদের ফাইন্ডিংস সরকারের কাছে জমা দেব। যেখানে স্থাপন করলে সব দিক দিয়ে ভালো হবে, সরকার সেখানে মেডিকেল কলেজটি স্থাপনের উদ্যোগ নেবে।”

সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় জেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের আশা, মেডিকেল কলেজটি বাস্তবায়িত হলে শেরপুর জেলাসহ আশপাশের জেলার মানুষ কম খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন এবং স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।