তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীঘেঁষা নিম্নাঞ্চলে মাথা চাঁড়া দিচ্ছে বন্যা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৩৯ অপরাহ্ন, ২৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৯:১৬ অপরাহ্ন, ২৪ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

উজানে টানা বৃষ্টি আর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত বর্ষণের কারণে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীঘেঁষা নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চলের হাজারো পরিবার উদ্বেগ নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক করেছে, উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হলে নদীগুলোর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদী অববাহিকার মানুষ নতুন করে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। নদীভাঙন, ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়া এবং ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আরও পড়ুন: এমপি সালাহউদ্দিন আইউবীর উদ্যোগে জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনে কাপাসিয়ার ৮০ শিক্ষার্থী

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বুধবার (২৪ জুন )  সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্তমানে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। একই সঙ্গে মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর সক্রিয় অবস্থায় থাকায় বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: দুদকের মামলার আসামিকে ময়মনসিংহে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদায়ন

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান কয়েকটি নদীর পানির সমতল আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরের বিভিন্ন জেলার নদীপাড়ের মানুষ ইতোমধ্যে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। অনেক পরিবার ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কৃষকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন, কারণ আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে আমন মৌসুমের প্রস্তুতি এবং স্থানীয় কৃষিকাজ ব্যাহত হতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উজানের বৃষ্টিপাতের ধরন ও তীব্রতায় পরিবর্তন এসেছে। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। এ কারণে আগাম সতর্কতা, স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি এবং নদী অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

বর্ষার এই সময়ে উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের একটাই প্রত্যাশা—নদীর পানি যেন বিপৎসীমা অতিক্রম না করে এবং সম্ভাব্য বন্যা বড় ধরনের মানবিক সংকটে রূপ না নেয়। আপাতত আকাশের দিকে তাকিয়ে, নদীর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে উদ্বেগ আর অপেক্ষার মধ্যেই দিন পার করছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।