রায়পুরে মা ও তিন মেয়ে হত্যা: অভিযুক্ত অন্তরের মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি স্বজনদের
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারের (২৮) মরদেহ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দূর সম্পর্কের এক চাচাতো ভাইয়ের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াকুব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: যুবদল নেতা ওয়ারেস উদ্দিন ফরাসের জানাজায় কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণ
পুলিশ জানায়, নিহত অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানাধীন চরভাটা এলাকার চর বজলুল করিম গ্রামের কার্তিক মজুমদারের ছেলে। ঘটনার পর পুলিশ তাঁর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহায়তায় অন্তরের দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই টিটু মজুমদারকে খবর দেওয়া হয়। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর বিকেলে টিটু মজুমদারের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর নিহত অন্তরের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী আটক
এদিকে এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া। তিনি জানান, মারধরে অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায় রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় এলাকার একটি ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তাঁর তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) এবং ফাতেমা আক্তার শিফাকে (৯) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত অন্তরকে ঘিরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।





