রক্ত দিয়ে মানবতার নজির গড়লেন নাজিরপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম
মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে বড় মানবিক কাজ আর নেই। সেই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই এক মুমূর্ষু রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান করে প্রশংসার নজির স্থাপন করেছেন পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম।
জানা যায়, নাজিরপুর উপজেলার কুমারখালী গ্রামের মো. আসলাম সেখ (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন হলে রোগীর স্বজনরা বিভিন্নভাবে রক্তের সন্ধান করতে থাকেন।
আরও পড়ুন: ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে ১০০ কোটি ডলারের চুক্তি
বিষয়টি নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলামের নজরে এলে তিনি দাপ্তরিক ব্যস্ততার মধ্যেও কোনো দ্বিধা না করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। তাঁর দেওয়া রক্ত দ্রুত রোগীর চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়, যা রোগীর চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রোগীর বড় ভাই ও সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাইয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে এ পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে নাজিরপুর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম নিজেই রক্ত দিতে এগিয়ে আসেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন মানবিক উদ্যোগ আমাদের পরিবারের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর মতো মানবিক মানুষ সমাজে অন্যদেরও রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”
আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির
ওসি তরিকুল ইসলামের এই মানবিক কর্মকাণ্ডে নাজিরপুরজুড়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পুলিশের কাজ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা অপরাধ দমনেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোও একজন প্রকৃত পুলিশ কর্মকর্তার মানবিক দায়িত্ব। ওসি তরিকুল ইসলামের এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ সেই দায়িত্ববোধেরই উজ্জ্বল প্রতিফলন।
স্থানীয়রা আরও বলেন, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার স্বেচ্ছায় রক্তদান সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং তরুণদের মানবিক কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করবে।
জনসেবাকে পেশাগত দায়িত্বের গণ্ডির বাইরে নিয়ে গিয়ে মানবিকতার যে অনন্য উদাহরণ ওসি মো. তরিকুল ইসলাম সৃষ্টি করেছেন, তা নিঃসন্দেহে একজন দায়িত্বশীল, জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তার উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হিসেবে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।





