চট্টগ্রামের গল্প উদযাপনে ‘সিলন আমার শহর’

ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগ নিয়ে চট্টগ্রামে সিলন টির বিশেষ আয়োজন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:০৯ অপরাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৬ অপরাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, খাবার, জীবনযাপন এবং শহরকে ঘিরে মানুষের আবেগ ও স্মৃতি উদযাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সিলন আমার শহর—চট্টগ্রাম’ ক্যাম্পেইনের মেগা ইভেন্ট।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের নেভি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় বন্দরনগরীর চেনা-অচেনা বিভিন্ন গল্প ও ঐতিহ্য।

আরও পড়ুন: ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে ১০০ কোটি ডলারের চুক্তি

বাংলাদেশের প্রতিটি শহরের রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি, খাবার ও মানুষের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক। দেশের বিভিন্ন শহরের এসব নিজস্ব গল্প নতুনভাবে আবিষ্কার করে সারা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরার ভাবনা থেকেই সিলন টি শুরু করেছে ‘সিলন আমার শহর’ ক্যাম্পেইন। এর প্রথম গন্তব্য হিসেবে চট্টগ্রামকে বেছে নেওয়া হয়।

ক্যাম্পেইনের শুরু থেকেই চট্টগ্রামের মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয় সিলন টি। চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে বাজারে আনা হয় বিশেষ নকশার সিলন টি প্যাকেজিং। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও শহরকে ঘিরে নানা আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

‘আমার শহর’ ডিজিটাল কনটেস্টের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের তাদের প্রিয় শহরকে ঘিরে ব্যক্তিগত স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও গল্প শেয়ার করার আহ্বান জানানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে প্রতি সপ্তাহে নির্বাচিত করা হয় সাপ্তাহিক বিজয়ী। পরে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত বিজয়ীদের মেগা ইভেন্টে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।

‘সিলন আমার শহর—চট্টগ্রাম’ মেগা ইভেন্টজুড়ে ছিল চট্টগ্রামকে নতুন করে আবিষ্কারের নানা সুযোগ। পুরোনো চট্টগ্রামের ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্য থেকে শুরু করে বন্দর ও রেলওয়ের গল্প, শহরের সংস্কৃতি, সংগীত, জীবনযাপন এবং বৈচিত্র্যময় খাবার বিভিন্ন অভিজ্ঞতামূলক উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

শহরের পরিচিত স্থানের পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া কিংবা অনেকের অজানা ঐতিহাসিক গল্পও স্থান পায় আয়োজনে। পুরোনো চট্টগ্রামের চিত্রকর্ম ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয় সময়ের সঙ্গে শহরটির পরিবর্তনের নানা গল্প।

আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় চট্টগ্রামের নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতিকে। মেজবান থেকে বেলা বিস্কুট, চায়ের আড্ডা থেকে স্থানীয় স্বাদের বিভিন্ন অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে চট্টগ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও সংস্কৃতির পরিচিত রূপ। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে ছিল বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘সিলন আমার শহর বিশেষ ব্যক্তিত্ব সম্মাননা’। নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পরিচয়, সংস্কৃতি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্বরা হলেন—একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আবুল মোমেন, স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসেন, নগর পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার হোসেন মজুমদার এবং লেখক ও গবেষক হারুন রশিদ।

সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের হাতে ‘সিলন আমার শহর বিশেষ ব্যক্তিত্ব সম্মাননা’ তুলে দেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল্লাহ চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক, আবুল খায়ের গ্রুপ।

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ক্যাম্পেইনের বিজয়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

চট্টগ্রাম ছিল ‘সিলন আমার শহর’ ক্যাম্পেইনের প্রথম গন্তব্য। মেগা ইভেন্টের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম অধ্যায়ের উদযাপন শেষ হলেও ‘আমার শহর’-এর যাত্রা এখানেই শেষ হচ্ছে না। বাংলাদেশের প্রতিটি শহরের রয়েছে নিজস্ব গল্প ও বৈচিত্র্য। চট্টগ্রাম তার গল্প বলেছে; এখন অপেক্ষা ‘সিলন আমার শহর’-এর পরবর্তী গন্তব্য কোন শহর হয়।