৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

হরিদাসের অর্থের উৎস ও দাতাদের পরিচয় জানতে চায় পুলিশ

Sanchoy Biswas
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৯:৫৩ অপরাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৩ অপরাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে মুদ্রা পাচার ও মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কে. এম. রাকিবুল হুদা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন: একতা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, থমকে উত্তরবঙ্গের রেলপথ

এর আগে রোববার রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকা থেকে হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আদালতে হাজির করার সময় হরিদাস চন্দ্রের হাতে হাতকড়া, গায়ে লাল টি-শার্ট, পরনে লুঙ্গি, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং মাথায় হেলমেট ছিল। পরে আদালতের কাঠগড়ায় তোলার পর পুলিশ তার হাতকড়া ও হেলমেট খুলে দেয়।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুর্ধর্ষ ডাকাত শফিক ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে গ্রেপ্তার

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে হুন্ডির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তার নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের দাবি, এসব অর্থের প্রকৃত উৎস, অর্থদাতাদের পরিচয়, লেনদেনের উদ্দেশ্য এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করতে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় রিমান্ড আবেদন বাতিল এবং জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতে দাবি করেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং এটি ধর্মীয় কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।

আইনজীবী বলেন, হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিংয়ের কোনো প্রমাণ নেই। তিনি কেবল একটি মন্দির নির্মাণ করেছেন, যেখানে অসংখ্য মানুষ প্রার্থনা করতে যান। মন্দির নির্মাণ কোনো অপরাধ হতে পারে না বলেও তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কবির হোসেন আসামিপক্ষের বক্তব্যকে "মিথ্যা ও মনগড়া" বলে দাবি করেন। তিনি আদালতে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অর্থের উৎস এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে রিমান্ড অপরিহার্য।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও দাবি করে, ধর্মীয় কার্যক্রমের আড়ালে অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে হরিদাস চন্দ্র বলেন, তিনি আগে কৃষিকাজ করতেন এবং বর্তমানে মন্দির পরিচালনা করেন।

নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, "কোনো ভক্ত যদি আমাকে টাকা দেয় ভগবানের সন্তুষ্টিতে খরচ করতে, তাহলে সেটি কি আমার দোষ? মন্দির বানানো কি আমার পাপ?"

তিনি আরও দাবি করেন, "আমি কোনো অর্থ পাচার করিনি।"

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তদন্তের স্বার্থে হরিদাস চন্দ্রের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।