সোনাগাজীর নবাবপুরে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

Sanchoy Biswas
ইলিয়াছ সুমন
প্রকাশিত: ১০:২৪ অপরাহ্ন, ৩০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৩:২৩ পূর্বাহ্ন, ৩১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ এবং একটি নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুরে অবস্থিত আমিরাবাদ ভবানীচরণ লাহা স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর উদ্যোগে অভিভাবকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে প্রতিষ্ঠানের ড. মাহবুব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সভার সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। তেলাওয়াত করেন প্রতিষ্ঠানের ধর্ম শিক্ষক মাওলানা মো. বোরহান উদ্দিন।

আরও পড়ুন: প্রতারক চক্রের ফাঁদ থেকে বাঁচতে নিজের লোভকে সংযত করতে হবে

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুলের সভাপতি ও ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন মঙ্গলকান্দি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমিরাবাদ ভবানীচরণ লাহা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি ও নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল আলম (জহির)।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা মো. সহিদ উল্ল্যাহ, ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি মাওলানা নুর নবী, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক অভিভাবক।

আরও পড়ুন: গাকৃবি উপাচার্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবার্ন ও পারডু ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সভায় বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেলিম বাদশা, সিনিয়র শিক্ষক বদরুল মিল্লাত এবং কয়েকজন অভিভাবক।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেলিম বাদশা তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্র ও ছাত্রীদের পৃথক নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা, বিশ্রামাগার, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, ক্যান্টিনসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে ক্লাসের আগে ও পরে অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সময়মতো পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারে।

প্রধান অতিথি আলাল উদ্দিন আলাল তাঁর বক্তব্যে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নবাবপুর এলাকার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন শুধু শিক্ষক বা পরিচালনা পর্ষদের একার দায়িত্ব নয়; শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি আদর্শ শিক্ষা-পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বিশেষ অতিথি জয়নাল আবেদীন বাবলু বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্থান নেই। যদি আমার দলের কেউও এ প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে, আমি নিজ দায়িত্বে তা প্রতিহত করব।" তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গন হবে জ্ঞানচর্চা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের কেন্দ্র; এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ নেই।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ জহিরুল আলম শিক্ষার মানোন্নয়ন, ইভটিজিং প্রতিরোধ, পারিবারিক শিক্ষার বিকাশ, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানে আধুনিক সফটওয়্যারভিত্তিক উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রতিদিন প্রতিটি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হয়। তিনি অভিভাবকদের নিয়মিত এসব বার্তা পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে সন্তান বিদ্যালয়ে উপস্থিত রয়েছে কি না, নাকি বিদ্যালয় ফাঁকি দিচ্ছে—তা সহজেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের ফলে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরে এসেছে।

মতবিনিময় সভায় কয়েকজন অভিভাবক সময়মতো পাঠ্যসূচি (সিলেবাস) সম্পন্ন না হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেবাস শেষ করার পাশাপাশি পাঠদানের মান আরও উন্নত করার আহ্বান জানান। এ সময় শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে খোলামেলা মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয় এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, নিয়মিত অধ্যয়ন এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। পারস্পরিক আস্থা, দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি আদর্শ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলাই এ মতবিনিময় সভার মূল লক্ষ্য।

সভা শেষে অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে গৃহীত উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সন্তানদের নিয়মিত লেখাপড়া, নৈতিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।