নেত্রকোনায় পাটের দামে লোকসান সামলাচ্ছে পাটকাঠি
নেত্রকোনায় চলতি মৌসুমে পাটের কাঙ্ক্ষিত বাজারদর না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। বাজারে পাটের দরপতনের কারণে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে কৃষকেরা যখন চরম দুশ্চিন্তায়, ঠিক তখনই পাটকাঠি বিক্রি করে সেই লোকসান সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। বর্তমানে গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ব্যবসায়ীদের কাছে পাটকাঠির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হওয়ায় এটি চাষিদের জন্য বাড়তি আয়ের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনা, খোলা মাঠ ও পাকা রাস্তার দুই পাশে পাটকাঠি শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর পর কাঠিগুলোকে আর ফেলনা হিসেবে না রেখে সযত্নে শুকিয়ে আঁটি বেঁধে রাখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পাটগ্রাম সীমান্তে ১ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস ও দুই বাইসাইকেল আটক
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, একসময় পাটকাঠি মূলত রান্নার জ্বালানি কিংবা ঘরের বেড়া ও ছাউনি দেওয়ার কাজেই সীমাবদ্ধ ছিল। অনেক সময় যত্নের অভাবে এগুলো নষ্টও হতো। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের কাজে চাহিদা বাড়ায় দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা সরাসরি গ্রামে এসে নগদ টাকায় পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাজারে এখন প্রতি ১০০ আঁটি পাটকাঠি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা প্রতি একর জমির উৎপাদন খরচের একটি বড় অংশ তুলে আনতে সাহায্য করছে।
নেত্রকোনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহনুমা নওরীন এ প্রতিবেদককে বলেন, "জেলায় এবার পাটের ফলন ও পাটের গুণগত মান যথেষ্ট ভালো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে পাটের কাঙ্ক্ষিত দাম না থাকায় কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন করতে পারছেন না। তা সত্ত্বেও পাটকাঠির ভালো বাজারমূল্য ও চাহিদার কারণে কৃষকদের লোকসানের চাপ অনেকটাই কমে আসছে।"
আরও পড়ুন: শেরপুরে ৫৬ সরকারি প্রাথমিকে নেই প্রধান শিক্ষক
কৃষকদের দাবি, পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে সরকারকে বাজার নজরদারি জোরদার এবং পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। তবে আপাতত পাটের বাজারে দরপতনের এই মন্দা সময়ে পাটকাঠিই তাদের মুখে কিছুটা হলেও স্বস্তির হাসি ফোটাচ্ছে।





