কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সীমান্তে মাদকের বিস্তার, সক্রিয় একাধিক সিন্ডিকেট

Any Akter
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ন, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৫ অপরাহ্ন, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ক্রমেই জাঁকিয়ে বসছে মাদক চোরাচালান ও কারবার। বিশেষ করে একবালিয়া, বলেরডেপা ও মান্দারি এলাকায় চোরাচালান সিন্ডিকেটের তৎপরতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্তের দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পথকে কাজে লাগিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী মাদকের চালান দেশে প্রবেশ করছে। পরবর্তী সময়ে এসব মাদক স্থানীয় হাতবদলের মাধ্যমে কুমিল্লা শহরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। সীমান্ত সংলগ্ন এসব এলাকায় একাধিক প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করছে। মাদক পরিবহনে তারা নিত্যনতুন কৌশল এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে বাহক হিসেবে ব্যবহার করায় অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে চুরি মামলায় ৫ জন গ্রেপ্তার

বলেরডেপা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হক জানান, "সন্ধ্যা নামলেই সীমান্তজুড়ে মাদক কারবারিদের আনাগোনা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না।" একই উদ্বেগের কথা জানান মান্দারি এলাকার বাসিন্দা সুমন আহমেদ। তাঁর মতে, মাদকের এই নীল ছোবল থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো প্রয়োজন।

মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চটকদার অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা সব সময় অধরা থেকে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে সীমান্তবর্তী এই এলাকাগুলোতে মাদকের বিস্তারে লাগাম টানা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: উলিপুরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

তবে মাদক কারবারিদের ছাড় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম। তিনি জানান, একবালিয়া, বলেরডেপা ও মান্দারি এলাকায় নিয়মিত অভিযান চলছে এবং পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, কুমিল্লা-১০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, সীমান্তে মাদক চোরাচালান রোধে টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে। জিরো টলারেন্স নীতিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একই সাথে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, বিজিবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি এই অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ততার ন্যূনতম অভিযোগও পাওয়া যায়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।