দুদিনের সফরে আজ ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:২৩ পূর্বাহ্ন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:২৩ পূর্বাহ্ন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুই দিনের সরকারি সফরকে ঘিরে কয়েক দিন ধরেই জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলোতে চলছে সাজসজ্জা। বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ, করা হয়েছে আলোকসজ্জা। পাশাপাশি শহরজুড়ে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির ঠাকুরগাঁও সফর ঘিরে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’ এবার দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজ শহরে ফিরছেন—এ বিষয়টিকে ঘিরে বাড়তি আবেগ ও উৎসাহ দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: হাম ও ডেঙ্গু সংক্রমণ একসঙ্গে বাড়তে থাকায় চাপে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা

সফরকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য যাতায়াতের পথ ও কর্মসূচির স্থানগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সড়কের ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙের কাজ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক জানান, রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির স্থান ও যাতায়াতের পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাড্ডায় ফার্নিচারের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট

সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রাষ্ট্রপতির। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তার অবতরণের কথা রয়েছে। এরপর জেলা সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন তিনি।

পরে শহরের সেনুয়া এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে বাবা সাবেক মন্ত্রী মির্জা রুহুল আমীন ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর কালীবাড়ির নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বাসভবনে ফিরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে। জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের হওয়ায় রাষ্ট্রপতির এই কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে জেলার উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশকে পড়াশোনার জন্য অন্যত্র যেতে হবে না।

রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে আনন্দের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানসহ জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেও আরও উদ্যোগ প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর জেলার মানুষের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আরেক বাসিন্দা বুলবুল আহমেদ বলেন, এতদিন তারা তাকে ‘আলমগীর স্যার’ হিসেবে দেখে এসেছেন। এখন রাষ্ট্রপতি হয়ে নিজের শহরে তার আগমন স্থানীয়দের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। একই সঙ্গে জেলার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর দিকেও তিনি নজর দেবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।

নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি হলেও তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। তাই রাষ্ট্রপতি হিসেবে দীর্ঘদিন পর নিজের মানুষের কাছে তার ফিরে আসা জেলার মানুষের জন্য গর্ব ও আবেগের বিষয়।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাতায়াতের পথ, কর্মসূচির স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।