সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৮ মৃত্যু: দায়ীদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

Sadek Ali
জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, আশুলিয়া
প্রকাশিত: ১:৪০ অপরাহ্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৭ পূর্বাহ্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী গাড়িতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা, নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ এবং ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের ঘটনাস্থলের সামনে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটি (এনজিডব্লিউইউ) ও টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের কাছে কুষ্টিয়ার গ্রাহকদের প্রায় ১০ কোটি টাকা পাওনা

মানববন্ধনে শ্রমিক নেতারা বলেন, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। ঝুঁকিপূর্ণ সরঞ্জাম ব্যবহার কিংবা নিরাপত্তাব্যবস্থায় অবহেলা শ্রমিকদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। তাই জামগড়ার দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে যাদের দায় পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

তারা বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিক এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান তারা।

আরও পড়ুন: বিল পরিশোধ-জাহাজের ছাড়পত্র সবই অনলাইনে, স্মার্ট পোর্টে রূপান্তর হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর

মানববন্ধনে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম ও টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের ঢাকা জেলার সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানসহ সংগঠন দুটির নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিক নেতারা বলেন, দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন, গ্যাস সিলিন্ডারসহ ঝুঁকিপূর্ণ সরঞ্জামের পরীক্ষা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ সরঞ্জাম অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রীতি গ্রুপে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিহত ও আহত শ্রমিক এবং তাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিশ্চিত করা, দেশের সব পোশাক কারখানায় কার্যকর কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করা এবং ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত কারখানা পরিদর্শন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা চত্বরে সিলিন্ডারবাহী গাড়িতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হলে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়ায়। আহত হন অন্তত ২৫ জন।

ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে আটজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ মামলা করেছে। মামলায় প্রীতি গ্রুপের ছয় কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে মামলায় কারখানার মালিকপক্ষের শীর্ষ পর্যায়ের কারও নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা। তাদের অভিযোগ, মালিকপক্ষের পরিবর্তে মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের আসামি করে দায় সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে প্রকৃত দায় ও সংশ্লিষ্টতা নির্ধারণের দাবি জানান তারা।

এদিকে বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলের আশপাশে পাওয়া সিলিন্ডারের গায়ে ‘ডোন্ট ইউজ আফটার ২০২১’ লেখা দেখা গেছে। বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সিলিন্ডার পরিবহনের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে সিলিন্ডারটির মেয়াদ ও বিস্ফোরণের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্কসহ দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হবে।

মানববন্ধন থেকে শ্রমিক নেতারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনা, নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং দেশের পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।