কোটি টাকার বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ
আশুলিয়ায় মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
সাভারের আশুলিয়ায় মাদ্রাসার মালিকানাধীন কাঁচাবাজার ও পাইকারি কাপড়ের বাজারের আয় ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একদল লোক মাদ্রাসায় প্রবেশ করে অফিস কক্ষসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে।
আরও পড়ুন: প্রিজন ভ্যান থেকে পিচ্চি রাজার পলায়ন, ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
এ সময় প্রায় ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা, আসবাবপত্র, দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। অফিসের লকারে থাকা ২০ লাখ টাকা, দুটি ল্যাপটপ ও ১০টি কম্পিউটার মনিটর নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। ভাঙচুরে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: জীবননগরে এসকাপ সিরাপ ও দেশীয় পিস্তলসহ দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার
মাদ্রাসার উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ বাদী হয়ে রাতে আশুলিয়া থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় ইমাম হাসান, জাকির হোসেন, মো. মামুন দেওয়ান ওরফে সুটার মামুন, সুপার কালু, মো. রুবেল, মারুফ হোসেন মুকুল, ডাক্তার সালেউদ্দিন সাঈদ, মো. ফজলুল কবির, মো. বাবু, রফিক দেওয়ান, হাবিবুর, কানা মনির, শামীম ও মো. দিপুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ভাষ্য, মাদ্রাসার সঙ্গে থাকা কাঁচাবাজার ও পাইকারি কাপড়ের বাজার থেকে বড় অঙ্কের আয় হয়। ওই আয় ও বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। এর জেরেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
ধামসোনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান মমতাজ উদ্দিন মোন্তাজ বলেন, মাদ্রাসার কাঁচাবাজার ও পাইকারি কাপড়ের বাজার থেকে বড় অঙ্কের আয় হয়। এসব আয় ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে মাদ্রাসা চালাতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদ্রাসা ও এর মালিকানাধীন মার্কেট দখলের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ইমাম হাসানের নেতৃত্বে নাম উল্লেখ করা আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসায় প্রবেশ করেন। তাঁরা মাদ্রাসার আসবাবপত্র, দরজা-জানালা ও প্রায় ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়।
এ সময় মাদ্রাসার অফিসের লকারে থাকা ২০ লাখ টাকা, দুটি ল্যাপটপ ও ১০টি কম্পিউটার মনিটর নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
মাদ্রাসার উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ বলেন, হামলায় মাদ্রাসার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর আগেও কয়েকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবার ইমাম হাসানের নেতৃত্বে লোকজন হামলা চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনাস্থলে ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেনকেও দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সানজিদের দাবি, দারুল ইহসান ট্রাস্টের সম্পদ ও মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গণঅভ্যুত্থানের পর আগের দখলদারেরা সরে যাওয়ার পর তারা আবারও মাদ্রাসা ও মার্কেট দখলের চেষ্টা করছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন। তিনি বলেন, মাদ্রাসা ও মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে। কারা হামলা করেছে, তিনি তা জানেন না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর তিনিও সেখানে যান। হামলার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
জাকির হোসেন বলেন, আমি কোনো চাঁদাবাজি বা দখলবাজির সঙ্গে জড়িত নই। মাদ্রাসাটি কে নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নিয়ে যে বিরোধ চলছে, পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করুক।
অন্যদিকে মার্কেটের ব্যবসায়ী ইমাম হাসানও মাদ্রাসায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দারুল ইহসান ট্রাস্টের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে তিনি মার্কেট নির্মাণ করেছেন। সৈয়দ সানজিদ তাঁর কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছেন এবং এ বিষয়ে তিনি থানায় মামলাও করেছেন।
ইমাম হাসান বলেন,ট্রাস্টের দুই পক্ষের বিরোধের মধ্যে আমাকে দোষী করা হচ্ছে। আমি কেন মাদ্রাসায় হামলা করতে যাব? এসব সানজিদের নাটক।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, হামলার ঘটনায় রাতে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদ্রাসা ও মার্কেটের মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।





