শাজাহানপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের মানববন্ধন
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চোপিনগর ইউনিয়নের জয়ন্তিবাড়ী দারুলহুদা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর ও গাবতলী) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটনের ডিও লেটার (চাহিদা পত্র) নিয়ে চোপিনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সভাপতি হতে চেয়েছিলেন—এমন খবরে এর প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী।
রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সামনের সড়কে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। এতে গ্রামের বিপুল সংখ্যক নারী ঝাড়ু হাতে অংশ নেন এবং আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মানববন্ধন থেকে তাকে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এর আগে একই পদের জন্য চোপিনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবু সাহিনকেও সংসদ সদস্য ডিও লেটার দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: আসামি ছাড়াতে থানায় ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিগত দিনে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে উপজেলার মাঝিড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নকলসহ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন। পরে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আদালত তাকে জেল প্রদান করে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, আনোয়ার হোসেন ‘বিলকেশপাথার কচুয়ার বিল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ’-এর সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সমিতি কুক্ষিগত করে ফান্ডের সমস্ত অর্থ লুটপাট করেন। এছাড়া সমিতির আওতাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের গাছ চুরি করে বিক্রি করে দেন। এরপর থেকে ওই সমিতিতে আর কোনো নির্বাচন হয়নি এবং সমিতিটি ধ্বংস হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: কালাই অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বাগত ও শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী
বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তিনি ‘মব’ (উত্তেজিত জনতা) সৃষ্টি করে মাঝিড়া এলাকার একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেন। (যদিও উক্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত)।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জয়ন্তিবাড়ী গ্রামে অনেক শিক্ষিত ও সৎ মানুষ রয়েছেন, যাদের হাত ধরে মাদ্রাসার উন্নয়ন সম্ভব। আনোয়ার মাস্টারের মতো অসৎ ব্যক্তির হাতে এই প্রতিষ্ঠান গেলে তা ধ্বংস হয়ে যাবে।”
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চোপিনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য আবু ইউসুফ আলী, দিশারী ক্লাবের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ বিষয়ে মাদ্রাসা সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, “এলাকাবাসী বহিরাগত কাউকে ম্যানেজিং কমিটিতে চায় না। আনোয়ার হোসেন আমার বাড়িতে আবেদন ও ডিও লেটার দিতে এসেছিলেন, কিন্তু আমি তা গ্রহণ করিনি। তাকে বলেছি মাদ্রাসা চলাকালীন এসে জমা দিতে। তার কারণেই মূলত গ্রামবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা মানে সংসদ সদস্যের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা। কয়েক বছর আগে কেন্দ্রে এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে যাওয়ার সময় ম্যাজিস্ট্রেট এসেছিলেন, পরে আমি ওই মামলায় খালাস পাই। ৫ আগস্টের পর আমি কোনো মব তৈরি করিনি; প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে স্কুলে ঢুকতে পারেননি, আমি নিজেই তাকে স্কুলে নিয়ে গিয়েছিলাম। সমবায় সমিতির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মিথ্যা, আওয়ামী লীগের দোসররা মামলা করেছিল যা আদালতে চলমান। এছাড়া মাদ্রাসায় আমি এখনও ডিও লেটার জমা দিইনি। প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বিদ্যুৎ বলেন, “আনোয়ার হোসেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। সংসদ সদস্য যাকে ডিও লেটার দেবেন, তিনিই সভাপতি হবেন। তার নকল সরবরাহে জেল খাটা, সমবায় সমিতির ঝামেলা বা মব সৃষ্টি করে প্রধান শিক্ষককে বাধা দেওয়ার বিষয়গুলো আমার জানা নেই।”





