শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত
উলিপুরে নাটির খামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক, ৭ শিক্ষার্থী
ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের নাটির খামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে নানা দুর্নীতি ও অপব্যবস্থাপনার অভিযোগ। এ নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গত রোববার দুপুর ১২টায় জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের নাটির খামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানীর ঘরোয়া পরিবেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করায় ছাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে। সময়মতো শিক্ষকদের উপস্থিতি থাকেন না, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান নেই। তার সহধর্মিণী একই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা। বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে রাইস কুকারে ভাত, পাশাপাশি তরকারি রান্না করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল
পার্শ্ববর্তী গ্রামের ৬ জন শিক্ষক উক্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় নানা গাফিলতি হচ্ছে। বর্তমানে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র সাতজন। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির হাজিরা খাতা পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের উপবৃত্তির সংখ্যা আড়াইশো থাকলেও শিক্ষার্থী উপস্থিত পাওয়া গেছে সাতজন।
শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কম থাকার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে না এলে আমাদের করার কিছু নেই। আমাদের বেতন সরকার দেবেন। শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে নারাজ।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় অপহৃত শিশু সাইম উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
স্থানীয় নুর ইসলাম ও বাবর আলী বাবুসহ কয়েকজন জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানী স্কুলে যোগদানের পর বিদ্যালয়ে লেখাপড়া না থাকায় দিন দিন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমে গেছে। এবং উল্লেখ করেন, কমিটি নিয়ে নানা দ্বিধাদ্বন্দ্ব চলছে। স্থানীয়দের সাথে বা অবিভাবকের সাথে কোনো মতবিনিময় করেন না। উক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা এত কম হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থী উপস্থিতি বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী পরিদর্শক এটিও আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি নিয়ে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। শিক্ষার্থী এত কম থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উলিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস তোকদার জানিয়েছেন, উলিপুর উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা—বড় উপজেলা। একার পক্ষে খোঁজখবর নেওয়া সম্ভব নয়। তাই আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তাই তিনি তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত এটিও আবুল কালাম আজাদকে বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শন করে যথাযথ রিপোর্ট প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছেন।





