কক্সবাজারে একই স্থানে দিনে দুই দফা ডাকাতি, ৫০ থেকে ৬০ যানবাহনে লুটপাট

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:১০ পূর্বাহ্ন, ২০ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে চলন্ত অটোরিকশার যাত্রীকে লুটের পর দুপুরে একই এলাকায় একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাসহ একাধিক পথচারীর কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় ডাকাত দল।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, দুই দফা ঘটনায় অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন ডাকাতদের কবলে পড়ে। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এমন ঘটনায় সড়ক ব্যবহারকারী যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কারাবন্দী বিএনপি নেতার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাসিক প্রশাসক

ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রথম ডাকাতির ঘটনা ঘটে। রামু উপজেলার ঈদগড় এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাওয়ার সময় হিমছড়ি ঢালায় তার গাড়ির পথ আটকে দেয় ডাকাত দল। এ সময় তাকে জিম্মি করে মুঠোফোন, নগদ টাকা ও সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় তারা। একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান তারেক।

এর কয়েক ঘণ্টা পর দুপুর আড়াইটার দিকে একই স্থানে আবারও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এবার ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা ‘মুক্তি’র ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল হাকিমসহ কয়েকজন পথচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। তাদের কাছ থেকে মুঠোফোন ও নগদ অর্থ লুট করে দ্রুত পাহাড়ি জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

আরও পড়ুন: কুশিয়ারার দুই তীরে বাংলাদেশ-ভারতের মানুষের মিলনমেলা, জকিগঞ্জে দুর্গোৎসবের বিদায়

খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারী ও বনদস্যু চক্রের সদস্যরা এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পাহাড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুষ্ক ও শীত মৌসুমে ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে ডাকাতির প্রবণতা বেড়ে যায়। এ সময় কৃষিপণ্য কেনাবেচা এবং চকরিয়া ও কক্সবাজার থেকে পাইকারি পণ্য পরিবহনের কারণে ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ নিয়ে যাতায়াত বাড়ে। আর এ সুযোগ কাজে লাগায় অপরাধীরা।

তবে শীত মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই দিনের বেলায় ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় পাহাড়বেষ্টিত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সড়কে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।