মানব পাচার ও প্রতারণার অভিযোগে দাদন ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

Shahrier Islam Pallab
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:০৬ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের উলিপুরে মানব পাচার, প্রতারণা ও উচ্চ সুদে ঋণ দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত মমিনুল ইসলাম বাবলু গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। এ ছাড়া তাঁর গ্রেপ্তারের খবরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রংপুর নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মমিনুল ইসলাম বাবলুকে গ্রেপ্তার করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ। ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের কোতোয়ালি সিআর ১৫৯৯/২৬ নম্বর মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন: শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন ভোলার রূপসী দ্বীপ চর কুকরি-মুকরিতে

মমিনুল ইসলাম বাবলু কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের পশ্চিম কালুডাঙ্গা গ্রামের মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে। তাঁর গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে শত শত মানুষ আনন্দ মিছিল বের করেন এবং বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করেন।

এর আগে একই দিন দুপুরে উলিপুর পৌরশহরের মসজিদুল হুদার সামনে মানববন্ধন করেন প্রায় ৩০টি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তাঁরা বাবলুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় যুব দিবসে নিবন্ধন সনদ ও সম্মাননা দিলেন প্রতিমন্ত্রী

ভুক্তভোগী আবদুল মজিদ মন্ডল, মহন্ত বর্মন, দুলাল হোসেন, মোজাফফর রহমান, আবদুল কাদের সরকার ও আমজাদ হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মমিনুল ইসলাম বাবলু উলিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্চ সুদে টাকা ঋণ দেওয়ার আড়ালে নানা ধরনের হয়রানি ও প্রতারণা করে আসছেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, বাবলু আগে সৌদি আরবে অবস্থান করতেন। ২০২১ সালে দেশে ফেরার পর নিজ এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষকে সৌদি আরব ও দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখান। বিদেশে পাঠানোর কথা বলে সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে জাল ভিসা দেখিয়ে তাঁদের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রেখে পালিয়ে যান তিনি।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, ঋণ দেওয়ার সময় জামানত হিসেবে ফাঁকা চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতেন বাবলু। পরে এসব কাগজপত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলায় মামলা করে ঋণগ্রহীতাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হতো। মানব পাচার, প্রতারণা ও দাদন ব্যবসাসংক্রান্ত একাধিক মামলাও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা। এসব ঘটনায় পুলিশের অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিভিন্ন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার কথাও জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে সুবিচার ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে স্থানীয়রা ২৭ কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবুর আলম সালেহীর কাছে লিখিত আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ অক্টোবর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উলিপুর থানাকে সুপারিশ করেন সংসদ সদস্য।

রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াদুদ আলম জানান, প্রতারণার একটি মামলায় মমিনুল ইসলাম বাবলুকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বিভিন্নভাবে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এখন তাঁরা সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার চান।