‎সাংবাদিক আলিফ হত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন ইমন ও সাব্বির

Shahrier Islam Pallab
নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:৫৭ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৯ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির হত্যা মামলায় গ্রেফতার দুই সন্দেহভাজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের নাম ও সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

‎‎গতকাল রবিবার (১ নভেম্বর) দুর্গাপুর চৌকি আদালতে বিচারক নুরুল কবীর ভূইয়ার কাছে তাঁরা এই জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি হলেন দুর্গাপুর পৌরসভার মোক্তারপাড়া এলাকার ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) এবং উপজেলার তেরিবাজার এলাকার মো. সাব্বির আহম্মেদ (২৫)‎

আরও পড়ুন: ১৪ বছর পর পড়াশোনায় ফিরে এইচএসসিতে জিপিএ-৫.০০ পেলেন গৃহবধূ রীতি

‎দুর্গাপুর চৌকি আদালতের জিআরও কামরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎‎এর আগে গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে নেত্রকোণা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁদের গ্রেফতার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ বিকেলে তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়।‎

আরও পড়ুন: বগুড়া জেলা পুলিশের টিএ বিল আত্মসাতের নতুন মোড

‎দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, তদন্তের স্বার্থে আপাতত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে গ্রেফতার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে উল্লেখ করা বিভিন্ন ব্যক্তির নাম-ঠিকানা ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎ওসি আরও জানান, ইমন ও সাব্বিরের বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।

‎পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব এবং ২০ অক্টোবর রাতে আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদেও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

‎উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ নভেম্বর সাংবাদিক আলিফের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন ইমন। একই মামলায় সাব্বিরও অন্যতম আসামি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলার তদন্তেও ইমনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে আসে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামও হত্যাকাণ্ডে ইমনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।

‎গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির। এ ঘটনায় পরদিন তাঁর স্ত্রী খাদিজা আক্তার ওরফে আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

‎‎নিহত আলিফ বেসরকারি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোণা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে সীমান্তবর্তী এলাকার চোরাচালান, অপরাধ ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি।