গাজীপুরে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি, শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তপ্ত শিল্পাঞ্চল
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় রোববারও উত্তপ্ত ছিল গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের অবরোধে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা টিয়ার শেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন।
পরে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে হাটিপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উদ্বোধন
রোববার (২ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা।
পরে মহাসড়কের আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্টেও অবরোধ ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরা ঝুট কাপড়, বাঁশ ও কাঠ জড়ো করে মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, আটক ৪১
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলা অবরোধে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন আটকা পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ, গাজীপুর জেলা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন।
দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
অন্যদিকে, দুপুরে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন এবং দুটি গাড়িতে ভাঙচুর করেন।
এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং শিল্প পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।





