এনগেজমেন্ট হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে
ডিবি হেফাজতে থাকা হেজাজের মৃত্যুর অভিযোগ পরিবারের
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগের হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের অন্যতম সহযোগী হেজাজ বিন আলিম ওরফে ফাহিম আহমেদের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে ডায়ালাইসিস অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার স্বজনদের অভিযোগ- পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে হেজাজকে।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি হত্যা মামলায় ডিবি ওয়ারী বিভাগের সদস্যরা শনিবার ভোর রাতে ধানমন্ডির জাপান ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল থেকে হেজাজ গ্রেপ্তার করে।
আরও পড়ুন: রাব্বানীর ভাই ও বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত
নিহত হেজাজের মামা হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, গত ১১ মার্চ যৌথ বাহিনী জিগাতলার টালি অফিস রোড এলাকা থেকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করে। যৌথ বাহিনী যখন তাকে আটক করেছিল তখন তাকে ব্যাপক মারধরের পর মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করে। পরদিন ১২ মার্চ মোহাম্মদপুর থানা থেকে একটি ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠিয়ে দেয়। এরপর হেজাজ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। এরপর আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর হেজাজকে ধানমন্ডির জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার ভোররাতের দিকে তাকে ডিবি ওয়ারী বিভাগ আবারও আটক করে। আমরা ডিবিকে বারবার বলেছিলাম, সে অসুস্থ তাকে এখানে রেখে চিকিৎসা করানো হোক কিন্তু তারা আমাদের কথা না শুনে তাকে ওই অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে যায় পরে ঢাকা মেডিকেলের নেফ্রলজি বিভাগে ডায়ালিসিস দেয়া অবস্থায় মারা যায়।
এদিকে হেজাজের মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে ডিবি পুলিশের সদস্যরা চলে যান। এরপর ময়নাতদন্ত ছাড়া তার পরিবার ঢাকা মেডিকেল থেকে মরদেহ নিয়ে যান। ধানমন্ডির একটি মসজিদে তার জানাযার আয়োজনও করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর জানাজা না পড়িয়ে আবারও হেজাজের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য কলেজ মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুন: রংপুর ও বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতনে ব্যাপক রদবদল
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহমেদ মাসুদ বলেন, শনিবার ইফতারের পর বাদ মাগরিব ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার জানাযা হওয়ার কথা ছিল। আমরা খবর পেয়ে ওই মসজিদ থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়ে দিয়েছি। তার মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক। এ কারণে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।





