মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১৩ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২:৪৬ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় মেট্রোরেলের তিনটি স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। আন্দোলন চলাকালে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন: মিরপুরে আবারও পোশাকশ্রমিকদের অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে মিরপুর-১১, ১২ ও প্রশিকা মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে জড়ো হন। এতে এসব এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে পোশাকশ্রমিকদের বেতন নির্ধারণে শ্রম মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মাসিক বেতনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা।

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। দুপুর আড়াইটার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বর থেকে সরে শ্রমিকদের একটি অংশ মিরপুর-১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাজার ও মার্কেট এলাকায় অবস্থান নেয়।

পরে বেলা ২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানাধীন হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে হিমালয় গার্মেন্টস ও পাশের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে পল্লবী থানার কালশী আদর্শনগর এলাকার ‘২২ তলা’ পোশাক কারখানায়ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন শ্রমিকেরা।