জর্ডানে চাকরির নামে প্রতারণা: সিআইডির অভিযানে তিনজন গ্রেফতার, ৫৫ পাসপোর্ট জব্দ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:৩১ অপরাহ্ন, ১৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৭ অপরাহ্ন, ১৫ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার এবং অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযানের সময় একটি ট্রাভেল এজেন্সির অফিস থেকে ৫৫টি পাসপোর্ট, বিদেশগমন সংক্রান্ত চুক্তিপত্র এবং কম্পিউটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, গ্রেফতারকৃতরা হলেন মাঞ্জুর প্রধানিয়া (৩৫), মো. ওসমান গনি (২৫) এবং কাজী মো. আতা-ই-রাব্বি (২৮)। গত ১৪ জুন বিকেলে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকায় অবস্থিত ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স’-এর কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুন: দিন-দুপুরে গোলাগুলি, খুন হচ্ছে একের পর এক; বাড়ছে জনমনে আতঙ্ক

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জর্ডানের আম্মানে অবস্থিত ‘জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড’-এর নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে প্রতিষ্ঠানটি বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখাত। জর্ডানে শ্রমিক ভিসায় চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় জর্ডানে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে অভিযোগ জানালে বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেলের নজরে আসে। পরে তদন্ত শুরু করে সিআইডি।

আরও পড়ুন: ওয়ারীতে ৫৭ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই: আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের আরও ৩ সদস্য গ্রেফতার

তদন্তে আরও জানা যায়, ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স’ একটি ট্রাভেল এজেন্সি হলেও তাদের কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকের মাধ্যমে জর্ডান, সৌদি আরব, সার্বিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল।

অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির অফিস থেকে ৫৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ১৬টি বিদেশগমন সংক্রান্ত চুক্তিনামা, দুটি সিপিইউ এবং একটি ডিভিআর জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পাসপোর্টগুলোর মধ্যে ১৮টি জর্ডানগামী এবং বাকিগুলো সৌদি আরবগামী ব্যক্তিদের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈধ অনুমোদন ও রিক্রুটিং লাইসেন্স ছাড়াই বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছিল, যা অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতার তিনজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।