শেষ বারের মত বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ

Sanchoy Biswas
আরাফাত চৌধুরী, জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ন, ২০ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ৬:২০ অপরাহ্ন, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

এম্বুলেন্সে চড়ে শেষবারের মত নিজ ক্যাম্পাসে এসেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য জোবায়েদ হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তার প্রথম জানাযার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।  

সোমবার (২০ই অক্টোবর) বাদ যোহর  বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে জানাযা সম্পন্ন হয়েছে। জানাযায় অত্যন্ত আবেগঘন পরিস্থিতির তৈরী হয়।

আরও পড়ুন: জবি ইউট্যাবের নতুন সভাপতি নাসির উদ্দিন, সম্পাদক নাছির আহমাদ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রইচ উদদীন বলেন, 'তার অকালে চলে যাওয়া আমরা মেনে নিতে পারছি না। তার মাথায় আমি সমাবর্তনের গাউন তুলে দেওয়ার কথা, মাথায় ক্যাপ তুলে দেওয়ার কথা কিন্তু তার মৃতদেহ নিয়ে সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমার শিক্ষার্থীর লাশ কেনো সিঁড়িতে পড়ে থাকবে। আমরা হতাশ হয়েছি প্রশাসনের এহেন আচরণে।'

জানাযার পূর্বে জোবায়েদের প্রতি শোক জ্ঞাপন করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য জুবায়েদের মৃত্যুতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল পরিবার থেকে সমবেদনা জানাচ্ছি। এটি পরিকল্পিত একটি হত্যাকান্ড। এর আগে সাম্যকেও একই ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি খুব দ্রুত আসামিরা গ্রেপ্তার হবে। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।'

আরও পড়ুন: পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, 'আমরা প্রশাসনের অনেক গাফিলতি লক্ষ্য করেছি। আমরা যাতে আর গাফিলতি না দেখি। জানাযার নামাজের পর আমরা আমাদের শিক্ষকসহ অন্যান্য সকলে মিলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।'

উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, 'আমার ছাত্র জুবায়েদকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে, যেটা মোটেও কাম্য নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই অতিদ্রুত অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। জুবায়েদ অনেক ভালো ছেলে ছিলো। মাঝে মাঝে আমার রুমে আসতো। তার মতো ছেলের শত্রুই হতে পারেনা।'