খেলাধুলা-শিক্ষায় দেশসেরার স্বপ্ন বুনছে সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল এন্ড কলেজ
একাডেমিক শৃঙ্খলা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক নিবিড় পর্যবেক্ষণ, সহশিক্ষা ও ক্রীড়া কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব, শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয় সাধন, চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবিলা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতাসহ নানা পরিকল্পনা-সাহসিকতায় দেশসেরাদের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থান পেতে হাঁটি হাঁটি পা করে এগিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল এন্ড কলেজ। সর্বশেষ এসএসসি ২০২৬-এর ফলাফলে মোট ২৪৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৩২ জন। প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৯৪.৬৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ জন। এককথায় বলতে গেলে খেলাধুলা ও শিক্ষায় দেশসেরার স্বপ্ন বুনছে সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল এন্ড কলেজ।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে পাসের হার বাড়ানো এবং জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ অ্যাকাডেমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা এবং নিয়মিত মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ভীতি দূর করার দূরদর্শী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তারা জানান, শিক্ষার্থীদের শুধু চার দেয়ালের পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এরই সুফল হিসেবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের ৫৪তম শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ব্যাডমিন্টনে থানা, উপ-অঞ্চল ও আঞ্চলিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
আরও পড়ুন: চবি’তে ৩ হাজার শিক্ষার্থীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প বন্ধের অভিযোগ জিএস হাবীবের বিরুদ্ধে
সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল এন্ড কলেজের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক অগ্রগতি ও একাডেমিক সাফল্যের পেছনে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ বি এম মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষক মণ্ডলীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মান ধরে রাখার ক্ষেত্রে নেতৃত্বের দূরদর্শিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তারা বলছেন, মূলত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল সব ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ও সাফল্য এনেছে। কথা হয় সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ বি এম মিরাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক উন্নয়ন এবং পড়াশোনা করছে কি না, ঠিকমতো খোঁজখবর রাখা হয়। একইসঙ্গে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ এবং মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতা এবং চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রশাসনিক দক্ষতা ও ধৈর্যশীলতার মাধ্যমে পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখতে চেষ্টা করছি। শিক্ষাবোর্ডের সকল নিয়মকানুন মেনে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ডেমরা-যাত্রাবাড়ী অঞ্চলের অন্যতম সেরা শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ধরে রাখতে এই দূরদর্শিতা বড় ভূমিকা পালনের সাধ্যমতো চেষ্টা করার কথা জানান এই শিক্ষক।
প্রসঙ্গত, সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল এন্ড কলেজ ঢাকার যাত্রাবাড়ী-ডেমরা অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী এবং সুপরিচিত অলাভজনক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি এই অঞ্চলের শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। বহু বছরের পথচলায় এর সাফল্যের ঝুলিতে জমা হয়েছে চমৎকার সব শিক্ষাগত ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের অর্জন। সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে প্রতি বছরই চমৎকার ফলাফল বজায় রেখে চলেছে। বিশেষ করে সর্বশেষ এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে শিক্ষার্থীরা এক গৌরবময় সাফল্য অর্জন,
আরও পড়ুন: এভারেস্ট জয়ী ঢাবির শিক্ষার্থী নুরুন্নাহার নিম্নিকে সংবর্ধনা
শুধু পড়াশোনাতেই নয়, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সবুজ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে। এ বছর থানা পর্যায়ের অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় নুসরাত জাহান মিম এবং লামিয়া আক্তার থানা পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার দৌড়, স্কিপিং এবং হাই জাম্পে শীর্ষস্থান (টাইটেল) অর্জন করেছে।





