স্থানীয় সরকারের চিঠি ইসিতে

তফসিলের অপেক্ষায় সিটি নির্বাচন: ইসি আনোয়ারুল ইসলাম

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:০৯ পূর্বাহ্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় নির্বাচনের ধাক্কা সামলে এবার স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মনোযোগী হচ্ছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। তবে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন আপাতত অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই সিটি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি আনোয়ারুল বলেন, পয়লা বৈশাখের আগেই ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার নির্বাচন, সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ কয়েকটি সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ইসিতে বড় রদবদল: ১১২ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বদলি

অগ্রাধিকার দুই সংসদীয় আসন

ইসি সূত্র জানায়, শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিক অংশ, তাই গুরুত্বের বিবেচনায় কমিশন আপাতত এ দুটি আসনকে প্রাধান্য দিচ্ছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত ভোট আয়োজনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ৮ম জাতীয় ভোটার দিবস সামনে: সারাদেশে ৫৭০ কমিটি গঠন ইসির

প্রশ্ন উঠেছে—এই দুই আসনে ভোট আয়োজন করতে গিয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচন পিছিয়ে যাবে কি না। জবাবে ইসি আনোয়ারুল বলেন, “দেরি হবে—এমনটা বলব না। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ডিলিমিটেশন, আইনগত জটিলতা বা বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় আছে কি না, সেগুলো যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করবে না কমিশন।”

ছয় সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ: নির্বাচন পেছানোর ইঙ্গিত?

সম্প্রতি ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি নির্বাচন বিলম্বের আভাস? এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও কমিশন সূত্র বলছে, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও নির্বাচন আয়োজন—দুটি ভিন্ন বিষয়। আইনি প্রস্তুতি শেষ হলেই সিটি নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

চ্যালেঞ্জ ও আত্মবিশ্বাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ইসি আনোয়ারুল বলেন, শুরু থেকেই নানা চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে সবার সহযোগিতায় কমিশন তা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে এবং নির্বাচন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। একইভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনও সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে কমিশন আশাবাদী।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন প্রশাসনিক সক্ষমতা ও আইনগত প্রস্তুতির ওপর বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ডিলিমিটেশন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা—এসবই সময়সাপেক্ষ।

সংরক্ষিত নারী আসন: আইন পরিবর্তন ছাড়া নয়

মহিলা সদস্যদের সংরক্ষিত আসনের পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনের আওতায় আনার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব প্রসঙ্গে ইসি আনোয়ারুল বলেন, নির্বাচন কমিশন বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কাজ করবে। আইন পরিবর্তন হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে সংরক্ষিত আসন নির্বাচনে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত কমিশনের জানা নেই।

অন্যদিকে আরেক নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রমজানের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে। পাশাপাশি বৈশাখের আগেই দুটি আসনের উপনির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে কালবৈশাখী মৌসুমে বড় আয়োজনের সম্ভাবনা কম বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

১৬ বছর বয়সে এনআইডি, ভোটাধিকার ১৮-তে

এবার প্রথমবারের মতো ১৬ বছর ও তদূর্ধ্ব নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ বিষয়ে ইসি আনোয়ারুল বলেন, আইন অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ হলেই তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ভবিষ্যতে আরও কম বয়সীদের এনআইডির আওতায় আনার বিষয়েও কমিশন চিন্তাভাবনা করছে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বয়সে এনআইডি অন্তর্ভুক্তি প্রশাসনিক ডাটাবেস শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ ভোটার তালিকা প্রণয়নে সহায়ক হবে। তবে এ ক্ষেত্রে তথ্য-নিরাপত্তা ও সঠিক যাচাই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ।

সামনে কী? 

তফসিল ঘোষণা এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে কমিশনের বক্তব্যে স্পষ্ট—আইনি প্রস্তুতি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই তারা নির্বাচনী ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করবে। জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন—এই রূপান্তরপর্বে কমিশনের প্রশাসনিক দক্ষতাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।