সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী, গেজেট বৃহস্পতিবার
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় বৈধ ৪৯ জন প্রার্থীর গেজেট আজ প্রকাশ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশে এক প্রার্থীর মনোনয়ন পুনরায় গ্রহণ করে যাচাই-বাছাই (স্ক্রুটিনি) প্রক্রিয়াও শুরু করেছে কমিশন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বুধবার (২৯ এপ্রিল) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংরক্ষিত নারী আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মইনুদ্দিন খান এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: জাতীয় নির্বাচনের মতোই গুরুত্ব পাচ্ছে উপনির্বাচন: সিইসি
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী গত ১৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করা হয়। সেই তফসিল অনুযায়ী বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন করেননি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, শূন্য পদের বিপরীতে সমসংখ্যক মনোনয়নপত্র জমা পড়ায় আইন অনুযায়ী সরাসরি গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। “সংরক্ষিত মহিলা আসন আইনের ১২(২) ধারা অনুযায়ী আমরা আগামীকাল বৈধ প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশ করব,” বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধন, এরপর গণভোটের পরিকল্পনা
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রকাশিত বৈধ প্রার্থীর তালিকায় মোট ৪৯ জন রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি ও তাদের জোটের পক্ষ থেকে ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোট থেকে ১ জন প্রার্থী রয়েছেন। এই তালিকাই চূড়ান্ত গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
তবে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ চূড়ান্ত নয় বলেও ইঙ্গিত দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তিনি জানান, একজন প্রার্থী কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করেছেন, যার বিষয়ে এখনো কমিশনের কাছে বিস্তারিত তথ্য পৌঁছেনি।
অন্যদিকে, প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুম হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নম্বর-৫২২/২০২৬) দায়ের করেন। আদালত তার আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে তা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ মইনুদ্দিন খান বলেন, “আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে স্ক্রুটিনি করছি। আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে তার প্রার্থিতা বহাল থাকতে পারে, আবার বাতিলও হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “এই প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করছি। ফলাফল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হবে।”
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, যদি কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয় বা নতুন কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, “আগামীকাল আমরা ৪৯ জন বৈধ প্রার্থীর গেজেট প্রকাশ করব, যা ইতোমধ্যে নোটিশ আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।”





