নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ ৪০৩

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর নেপালে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হানার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই নেপালের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস শুরু হয়। ভয়াবহ এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪০৩ জন, যাদের বড় একটি অংশ বিদেশি পর্যটক।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া এবং আশপাশের কয়েকটি জেলায় হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। তবে ঠিক কী কারণে এত দ্রুত বন্যা ও ভূমিধস শুরু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

আরও পড়ুন: মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধ মোকাবিলায় স্বনির্ভরতার ওপর জোর ইরানের

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশটির পার্লামেন্টে জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্প হয়। এর মাত্র তিন মিনিট পর সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। তবে ভূমিকম্পের সঙ্গে বন্যার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দুর্যোগকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রসুয়ায় একজন, নুয়াকোটে ১১, ধাদিংয়ে ১৮, চিতওয়ানে ৩৩, গোর্খায় ১৯, তানাহুঁতে ৭ এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: ভয়াবহ বন্যায় তছনছ নেপালের রসুয়া, নিহত ৯৫, নিখোঁজ শত শত পর্যটক

নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৬১ জন নেপালি। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ২৬টি দেশের নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ।

ট্যুর অপারেটরদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজদের বেশির ভাগই ভারত ও নেপালের সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজু ভাদেল (৫৬) জানান, বুধবার সকালে তার ভগ্নিপতি তাকে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাদের পুরো বাড়ি বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। পরিবারের তিন সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তার এক ভাই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল পুলিশের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, প্রবল স্রোতে নদীর তীরবর্তী বাড়িঘর ভেসে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির ছবিতেও কাদামাটির নিচে চাপা পড়া একটি বাড়ির শুধু ওপরের অংশ দৃশ্যমান হতে দেখা যায়।

দুর্যোগের কারণে দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। এদিকে নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দুর্গত এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যায় তিব্বতের গিরং এলাকায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল সীমান্তবর্তী তিব্বতের একটি বাণিজ্যকেন্দ্রে ভূমিধসে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক’ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।