পবিত্র হজ আজ, তাঁবুর শহর মিনা থেকে আরাফাতে হাজিরা
মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ মহাসমাবেশ এবং মহান আল্লাহর কাছে পূর্ণ ক্ষমা পাওয়ার পবিত্র দিন—'ওকুফে আরাফা'। এর মধ্য দিয়েই শুরু হলো পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সৌদি আরবের সময় অনুযায়ী ৯ জিলহজ দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পবিত্র আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন হাজিরা। আল্লাহর রাসুল (সা.) এই অবস্থানকেই মূলত 'হজ' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
মিনা ও আরাফাতের আকাশ-বাতাস এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে লাখো হাজি’র ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক।’ এর বাংলা অর্থ—‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।
আরও পড়ুন: চুক্তির কথা চললেও ইরানে আমেরিকার নতুন হামলা, কী করবে ইরান?
এর আগে গতকাল সোমবার (৮ জিলহজ) তাঁবুর শহর মিনায় দিন ও রাতভর ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল ছিলেন আল্লাহর মেহমানরা। আজ মঙ্গলবার ফজরের নামাজ আদায়ের পর বিশেষ বাস ও ট্রেনযোগে হাজিরা ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হন। এবার হজযাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রায় ২৪ হাজার বাস নিয়োজিত করেছে।
আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে আজ হজের মূল খুতবা পাঠ করা হবে।
আরও পড়ুন: ক্ষমার প্রত্যাশায় আরাফায় হাজিরা
এ বছর খুতবা দেবেন মসজিদুল হারামের সম্মানিত ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুবিধার্থে এই খুতবা বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় সরাসরি অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হচ্ছে।
খুতবা শেষে এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে জামাতে আদায় করবেন মুসল্লিরা। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত এই ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহর দরবারে গুনাহ মাফের আশায় বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করবেন তারা।
সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ না পড়েই হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কংকর বা পাথর তারা এই মুজদালিফা থেকেই সংগ্রহ করবেন।
পরদিন (১০ জিলহজ) বুধবার সকালে পুনরায় মিনায় ফিরে হাজিরা ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। প্রথমে বড় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন।
এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা এবং কাবা শরিফ তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করবেন।
পরবর্তী দিনগুলোতেও মিনায় অবস্থান করে তিন শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। সবশেষে বিদায়ি তাওয়াফের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই ইবাদত।
এদিকে সৌদি আরবের সোমবারের গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তীব্র গরমের কারণে হাজিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সৌদি আরবের ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ড্রোন ক্যামেরা এবং বিশাল তথ্য বিশ্লেষণব্যবস্থা।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী পবিত্র হজে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশি হাজিদের জন্য মিনা ও আরাফাতে আলাদা আবাসনব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা এবং বাংলাদেশ হজ মিশনের নিবিড় তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।





