লোহিত সাগরে হুথিদের হামলায় ডুবলো কার্গো জাহাজ, নিহত ৪, নিখোঁজ ১৫
ইয়েমেনের হুথিদের আক্রমণে লোহিত সাগরে একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর ছয়জন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী জানিয়েছে, এই ঘটনায় কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: সিয়াটলে স্পেস নিডলের কাছে বন্দুক হামলা, নিহত ২
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) সংস্থার তথ্য অনুসারে, গ্রিস পরিচালিত, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘ইটারর্নিটি সি’ ২৫ জন ক্রু সহ হামলার শিকার হয়।
ইউকেএমটি’র দাবি, ছোট একটি নৌযান থেকে ছোড়া রকেট-চালিত গ্রেনেডের আঘাতে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জাহাজটি।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে ৬ জাহাজকে বাধা দেওয়ার দাবি ইরানের
মঙ্গলবারও আক্রমণ অব্যাহত ছিল। এর মধ্যেই রাতভর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছিল।
হুথিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলের দিকে যাচ্ছিল বলেই তারা ইটারর্নিটি সি জাহাজে আক্রমণ করেছে এবং তারা অনির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রুকে ‘নিরাপদ স্থানে’ নিয়ে গেছে।
য়েমেনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, হুথিরা জীবিত অনেক ক্রু সদস্যকে অপহরণ করেছে। অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।
ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটির ক্রুদের মধ্যে ২১ জন তাদের নাগরিক ছিলেন। এছাড়া বাকিদের মধ্যে একজন রাশিয়ান নাগরিক যিনি আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং একটি পা হারিয়েছেন।
রবিবার লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী, গ্রীক-পরিচালিত আরেকটি পণ্যবাহী জাহাজ, ‘ম্যাজিক সিজে’তে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছিল হুথিরা। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জাহাজ ডোবালো হুথিরা।
তারা দাবি করেছে, জাহাজটি এমন একটি কোম্পানির মালিকানাধীন যারা অধিকৃত ফিলিস্তিনের বন্দরে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে।
হুথিদের প্রকাশিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সশস্ত্র ব্যক্তিরা জাহাজে উঠে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে যার ফলে জাহাজটি ডুবে যায়।
এর আগে গত রবিবার আক্রান্ত হওয়া জাহাজ ‘ম্যাজিক সিজে’র ২২ জন ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছিল। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি বাণিজ্যিক জাহাজ তাদেরকে উদ্ধার করে।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে, হুথিরা লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ছোট নৌকার মাধ্যমে হামলা চালিয়ে প্রায় ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।





