ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে যা বললেন ট্রাম্প

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:০৯ অপরাহ্ন, ১৩ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ৭:১২ পূর্বাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনকে টমাহক দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করা মানে হবে “যুদ্ধের একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করা”।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “দেখা যাক... আমি পাঠাতে পারি।” সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কি ইউক্রেনে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাবে কি না।

আরও পড়ুন: শেষ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন, সন্ত্রাসবাদ ও একতরফা সংঘাতের নিন্দা

গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে দ্বিতীয় দফা ফোনালাপের পর বিষয়টি সামনে আসে। সেই আলোচনায় জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ জোরদার করতে শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতার অনুরোধ জানান।

ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই দূরপাল্লার অস্ত্রের দাবি করে আসছে, যাতে তারা ফ্রন্টলাইন থেকে অনেক দূরের রুশ শহরগুলোতেও পাল্টা আঘাত হানতে পারে। সাম্প্রতিক ফোনালাপে ট্রাম্প ও জেলেনস্কি ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ও দীর্ঘপাল্লার আক্রমণ সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেছেন।

আরও পড়ুন: পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসন

রাশিয়া আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র সরবরাহ করা হলে তা সংঘাতকে আরও তীব্র করবে এবং ওয়াশিংটন-মস্কো সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের হাতে পৌঁছালে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোও তার আওতায় চলে আসবে।

ইসরায়েল সফরে যাওয়ার পথে ট্রাম্প বলেন, তিনি এই বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তাঁর ভাষায়, “আমি হয়তো রাশিয়াকে বলব—যদি যুদ্ধের সমাধান না হয়, তাহলে আমরা হয়তো (ক্ষেপণাস্ত্র) পাঠাব, আবার নাও পাঠাতে পারি। রাশিয়া কি চায় টমাহক তাদের দিকে যাক? আমার মনে হয় না।

রাশিয়া বারবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে বহু অঞ্চলে বিদ্যুৎবিভ্রাট দেখা দিয়েছে।

গত মাসে ট্রাম্পের ইউক্রেন বিষয়ক বিশেষ দূত কিথ কেলগ যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে গভীর লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অনুমতি দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এই যুদ্ধে কোনো স্থানই নিরাপদ নয়।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, টমাহক হোক বা অন্য কোনো ক্ষেপণাস্ত্র—এগুলো যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারবে না।