তুরস্কে ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়েছে ভবন
তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় সিনদিরগি শহরে ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার ফলে একাধিক ভবন ধসে পড়েছে এবং কম্পনটি গ্রীস পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে।
তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার রাত ১০টা ৪৮ মিনিটে সংঘটিত হয় (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৪৮ মিনিট)। যার গভীরতা ছিল প্রায় ৬ কিলোমিটার। এর পরপরই একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
আরও পড়ুন: জাপানে আফগান দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া করা লোকজন ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে দৌড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন দোকানের ভিডিও ফুটেজেও দেখা যায়, আলো দুলছে এবং আসবাবপত্র কাঁপছে।
একজন গেমার লাইভ ভিডিও চলাকালীন তার প্রতিক্রিয়া ধারণ করেন, যেখানে তাকে ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিতে দেখা যায়, কক্ষটি প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে কাঁপতে থাকে।
আরও পড়ুন: আজই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, লক্ষ্য সরকার পতন
এটি গত তিন মাসে দ্বিতীয়বারের মতো এলাকাটি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল। তুরস্কের অর্থনৈতিক রাজধানী ইস্তাম্বুল ও জনপ্রিয় পর্যটন নগরী ইজমির-এও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। বালিকেসিরের গভর্নর ইসমাইল উস্তাওগ্লু জানিয়েছেন, কমপক্ষে ২২ জন আহত হয়েছেন।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানান, তিনটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন পূর্ববর্তী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খালি ছিল। এছাড়া একটি দুই তলা দোকানও সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
গভর্নর উস্তাওগ্লু আরও জানান, মসজিদ, স্কুল ও ক্রীড়া হলগুলো উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যাতে বাসিন্দারা নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারেন।
সিনদিরগি শহরটি পাহাড়বেষ্টিত, ইজমির থেকে প্রায় ১৩৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
তুরস্ক তিনটি টেকটোনিক প্লেট — অ্যানাটোলিয়ান, অ্যারাবিয়ান ও ইউরেশিয়ান প্লেট — এর সংযোগস্থলে অবস্থিত, যা দেশটিকে ভূমিকম্পপ্রবণ করে তুলেছে।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনতাকিয়া শহরে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৫৩ হাজার মানুষ মারা যান এবং লক্ষাধিক ভবন ধসে পড়ে। ঐ সময় ভূ-স্তর প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত সরে যায়, বিশেষজ্ঞরা জানান।
এ বছরের জুলাই মাসেও একই এলাকায় ৫.৮ মাত্রার** ভূমিকম্পে একজন নিহত ও অন্তত ৬৯ জন আহত হয়েছিলেন।
সূত্র: ডেইলি মেইল





