সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া চুক্তি
সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিয়ে একটি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ২০১৫ সালের অক্টোবরেই চুক্তির আলোচনার কাজ শেষ হলেও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এতে স্বাক্ষর বিলম্বিত হচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের সম্ভাব্য বিরোধিতাও এ বিলম্বের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘আমি কাতারে হামলা করেছি, সেখানে বোমা মেরেছি’
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। সাধারণত বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনাকারী অনেক দেশ নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তা সংগ্রহ করে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক তদারকি ছাড়া এই প্রযুক্তি সৌদি আরবের হাতে গেলে ভবিষ্যতে তা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তবে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন যুদ্ধবন্ধের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রস্তাবিত চুক্তিতে জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর কঠোর তদারকি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে সংস্থাটি প্রয়োজন অনুযায়ী সৌদি আরবের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের পূর্ণ সুযোগ নাও পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে তদারকির বিষয়টি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত যে ধরনের কঠোর আন্তর্জাতিক শর্ত মেনে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করেছিল, সেটিই ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে পরিচিত। সেই চুক্তিতে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ত্যাগ করে আন্তর্জাতিক আস্থার ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, সৌদি আরবকে এ ধরনের প্রযুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, প্রয়োজন হলে দেশটি নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে এসব স্থাপনা পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
অন্যদিকে, চুক্তির সমর্থকদের যুক্তি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্প বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। পাশাপাশি ওয়াশিংটন যদি এই সহযোগিতা না করে, তাহলে সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে একই ধরনের প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারে।
তবে সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতিতে শিথিলতা এনে এমন চুক্তি বাস্তবায়ন করা হলে বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের প্রচেষ্টা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
সূত্র: সিএনএন





