শিশুর চোখ উঠলে যা করবেন
হঠাৎ করে শিশুর চোখ লাল হয়ে যাওয়া, পানি পড়া কিংবা সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ খুলতে কষ্ট। এমন সমস্যা অনেক অভিভাবকের কাছেই পরিচিত। সাধারণভাবে যাকে চোখ ওঠা বলা হয়। এটি আসলে চোখের সংক্রমণজনিত একটি সমস্যা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার প্রধান কারণ ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। এছাড়া ধুলাবালি, ধোঁয়া, অ্যালার্জি কিংবা অপরিষ্কার হাত দিয়ে বারবার চোখে স্পর্শ করার অভ্যাস থেকেও এই রোগ হতে পারে। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাবারে রাখুন এই ৫ পুষ্টিকর উপাদান
চোখ ওঠার লক্ষণগুলো সহজেই বোঝা যায়। যেমন-চোখ লাল হয়ে যাওয়া, পানি বা পুঁজ বের হওয়া, চুলকানি, জ্বালাপোড়া এবং সকালে চোখের পাতা লেগে থাকা। অনেক সময় শিশু আলো সহ্য করতে না পেরে চোখ বন্ধ করে রাখে।
কী করবেন
আরও পড়ুন: গরমে ত্বকের যত্নে যে কাজগুলো করা জরুরি
চোখ ওঠা হলে প্রথমেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিষ্কার পানি দিয়ে শিশুর চোখ আলতোভাবে ধুয়ে দিতে হবে এবং নরম কাপড় দিয়ে মুছতে হবে। তবে একই কাপড় বারবার ব্যবহার করা ঠিক নয়।
শিশুকে বারবার চোখে হাত দেয়া থেকে বিরত রাখা জরুরি। কারণ এতে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বাচ্চার তোয়ালে, বালিশের কভার আলাদা রাখা উচিত, যাতে অন্য কেউ আক্রান্ত না হয়।
হালকা অস্বস্তি কমাতে পরিষ্কার কাপড় ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে চোখে সেঁক দেয়া যেতে পারে। তবে কোনো ধরনের চোখের ড্রপ বা ওষুধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
অনেকেই অন্যের ব্যবহৃত চোখের ড্রপ ব্যবহার করেন বা নিজের মতো করে ওষুধ দেন, এটি বিপজ্জনক হতে পারে। চোখ ঘষা বা চাপ দেয়া থেকেও বিরত রাখতে হবে শিশুকে। সংক্রমণ থাকা অবস্থায় স্কুল বা বাইরে পাঠানোও ঠিক নয়, এতে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
যদি চোখে তীব্র ব্যথা হয়, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, আলো সহ্য করতে না পারে বা কয়েকদিনের মধ্যে উন্নতি না হয়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
চোখ ওঠা সাধারণ একটি সমস্যা হলেও সচেতনতা আর সঠিক যত্নই পারে শিশুকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে। তাই লক্ষণ দেখলেই অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।





