অনলাইনে আয়ের প্রলোভনে ৪০ লাখ টাকা প্রতারণা, সিআইডির অভিযানে গ্রেফতার ২

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:২০ অপরাহ্ন, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৬:১৪ অপরাহ্ন, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অনলাইনে সহজে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঢাকা মেট্রো-পূর্ব ইউনিটের একটি দল গত ২২ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩৩) ও মো. রাজিব খাঁন (৩৩)। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ১০ বছর পর তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই মতিঝিল এলাকায় অবস্থানকালে এক ভুক্তভোগী টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে “Sabrina Islam” নামের একটি আইডির সঙ্গে পরিচিত হন। ওই আইডি থেকে তাকে “Atomic Market” নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করার প্রস্তাব দিয়ে সহজে আয়ের লোভ দেখানো হয়।

প্রথমে অল্প বিনিয়োগে কমিশন ও বোনাস দিয়ে আস্থা অর্জন করে প্রতারকরা। পরে ধাপে ধাপে বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা জমা নিতে থাকে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্টে বিপুল লাভ দেখানো হলেও সেই অর্থ উত্তোলনের সময় “সিকিউরিটি ফি”, “সার্ভিস চার্জ” ও “NFT স্কোর” বৃদ্ধির নামে আরও টাকা দাবি করা হয়।

আরও পড়ুন: টেকনাফের হ্নীলা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৩৯ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬৯ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পরে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে প্রতারকরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটি তদন্তের পর সিআইডির একটি দল আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে হাজারীবাগের নতুন রাস্তা এলাকা থেকে সাজ্জাদ হোসেনকে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার এলাকা থেকে রাজিব খাঁনকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে যে, তারা ভুয়া টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন চাকরি ও সহজ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। তদন্তে আরও জানা গেছে, সাজ্জাদ হোসেন পূর্বেও এ ধরনের অপরাধে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে রাজিব খাঁন ব্যাংক হিসাব খোলা ও এনআইডি সরবরাহের মাধ্যমে এই চক্রকে সহায়তা করতেন।

গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনতে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সিআইডি এ ধরনের অনলাইন প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।