থাইরয়েড ঠিকমতো কাজ করছে না, শরীরে দেখা দিতে পারে যে ৯ লক্ষণ
থাইরয়েড শরীরের বিপাক, হৃদস্পন্দন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে। এই গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করলে হাইপোথাইরয়েডিজম এবং বেশি হরমোন তৈরি করলে হাইপারথাইরয়েডিজম হতে পারে।
সমস্যা হলো, থাইরয়েডের অনেক উপসর্গকে সাধারণ ক্লান্তি, মানসিক চাপ, বয়সজনিত পরিবর্তন বা অন্য স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ বলে মনে হতে পারে। তাই কিছু পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ব্যস্ততার মাঝেও ত্বকের যত্ন, সুস্থ ত্বকের জন্য ৫ সহজ অভ্যাস
১. হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া
খাদ্যাভ্যাসে বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও হঠাৎ ওজন বাড়তে বা কমতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিজমে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে ওজন বাড়তে পারে। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজমে স্বাভাবিক বা বেশি ক্ষুধা থাকা সত্ত্বেও ওজন কমে যেতে পারে। তবে ওজন পরিবর্তনের অনেক কারণ থাকতে পারে। শুধু এই একটি লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে থাইরয়েডের সমস্যা নিশ্চিত করা যায় না।
আরও পড়ুন: ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন? তালিকায় আছে চিংড়ি, কোমল পানীয়ও
২. সবসময় ক্লান্ত লাগা
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি নিয়মিত দুর্বল, নিস্তেজ বা ক্লান্ত লাগে, তা হাইপোথাইরয়েডিজমের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। মনোযোগ ধরে রাখা বা দৈনন্দিন কাজ করতেও সমস্যা হতে পারে। তবে অ্যানিমিয়া, ঘুমের ঘাটতি, মানসিক চাপসহ আরও অনেক কারণেও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি হতে পারে।
৩. অস্বাভাবিক ঠান্ডা বা গরম লাগা
আশপাশের অন্যরা স্বাভাবিক থাকলেও আপনার বেশি ঠান্ডা লাগলে তা হাইপোথাইরয়েডিজমের একটি লক্ষণ হতে পারে। বিপরীতে হাইপারথাইরয়েডিজমে অস্বাভাবিক গরম লাগা বা অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।
৪. হৃদস্পন্দনে পরিবর্তন
থাইরয়েড হরমোন হৃদস্পন্দনের ওপরও প্রভাব ফেলে। হাইপারথাইরয়েডিজমে দ্রুত বা জোরে হৃদস্পন্দন, বুক ধড়ফড়, উদ্বেগ বা ঘাম হতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিজমে হৃদস্পন্দন ধীর হতে পারে। ঘন ঘন বুক ধড়ফড়, অস্বাভাবিক দ্রুত বা ধীর হৃদস্পন্দন, মাথা ঘোরা কিংবা অজ্ঞান হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৫. চুল পাতলা হওয়া বা অতিরিক্ত ঝরে পড়া
থাইরয়েডের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্র ব্যাহত হতে পারে। ফলে চুল পাতলা হওয়া বা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল পড়তে পারে। কারও কারও ভ্রুর বাইরের অংশও পাতলা হয়ে যেতে পারে।
তবে পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন, কিছু ওষুধসহ অন্যান্য কারণেও চুল পড়তে পারে।
৬. ত্বক শুষ্ক হওয়া বা অতিরিক্ত ঘাম
হাইপোথাইরয়েডিজমে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যেতে পারে এবং ঘাম কম হতে পারে। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজমে ঘাম বেড়ে গিয়ে ত্বক উষ্ণ ও আর্দ্র মনে হতে পারে। ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের সঙ্গে থাইরয়েডের অন্য উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
৭. কোষ্ঠকাঠিন্য বা ঘন ঘন মলত্যাগ
থাইরয়েড হরমোন হজমপ্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করে। হাইপোথাইরয়েডিজমে অন্ত্রের গতি কমে গিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। আর হাইপারথাইরয়েডিজমে হজমপ্রক্রিয়া দ্রুত হয়ে ঘন ঘন মলত্যাগ বা ডায়রিয়া হতে পারে।
৮. মেজাজ ও মনোযোগে পরিবর্তন
হাইপোথাইরয়েডিজমে মনমরা ভাব, মনোযোগের ঘাটতি, ধীর চিন্তা ও কাজে আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজমে উদ্বেগ, অস্থিরতা, খিটখিটে মেজাজ ও ঘুমের সমস্যা হতে পারে। এসব লক্ষণ মানসিক চাপ বা অন্যান্য সমস্যার কারণেও হতে পারে। তবে শারীরিক উপসর্গের সঙ্গে একসঙ্গে দেখা দিলে বিষয়টি চিকিৎসকের কাছে জানানো উচিত।
৯. মাসিকের ধরণে পরিবর্তন
থাইরয়েড হরমোন প্রজননব্যবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত। হাইপোথাইরয়েডিজমে মাসিকের সময় অতিরিক্ত বা ঘন ঘন রক্তপাত হতে পারে। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজমে মাসিকের রক্তপাত কমে যেতে পারে। মাসিকের ধরণে নতুন বা দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, বুক ধড়ফড়, ঠান্ডা-গরম সহ্য করতে না পারা, চুল পড়া, হজমের সমস্যা বা মাসিকের পরিবর্তনের মতো একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে নিজে থেকে থাইরয়েডের ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে থাইরয়েডের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে পারেন।





