পাঁচ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশকে ‘সোনার খনিতে’ রূপান্তর সম্ভব: বাণিজ্য উপদেষ্টা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৪৪ অপরাহ্ন, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৯:৪৪ অপরাহ্ন, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সঠিক রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

তিনি বলেন, “আমাদের দেশে পণ্য তৈরির জন্য কাঁচামালের ঘাটতি আছে। তবে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে সেই অভাব পূরণ সম্ভব। আল্লাহ কাউকে জ্ঞান অর্জনে একচেটিয়া অধিকার দেননি। যে যত চেষ্টা করবে, সে তত অর্জন করবে।

আরও পড়ুন: ছুটিতেও গুলশান বাসভবন থেকে সরকারি কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী

উপদেষ্টা আরও জানান, লেবার প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি, ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিতকরণ, লজিস্টিক সুবিধা, অর্থায়নে স্বল্প খরচ, সহজ ফিন্যান্সিং এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত ‘ব্যবসার ভবিষ্যৎ: উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: ঈদে কূটনীতিক-শিক্ষাবিদদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত রমজানে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক থাকায় নিত্যপণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে ছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর বাজার স্বাভাবিক রাখা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সিন্ডিকেটের অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আমরা সামগ্রিক প্রচেষ্টায় সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।

তিনি আরও জানান, “শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের রিজার্ভ ছিল মাত্র ১০ বিলিয়ন ডলার। তবে বিভিন্ন দায় পরিশোধ করে বর্তমানে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। এটি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের ফল।”

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সরকারের কাছে প্রত্যাশা তুলে ধরে বশিরউদ্দীন বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনে সম্পদের সুষম বণ্টন হয়নি। ক্রোনিস তৈরি করে অর্থনীতি অস্থিতিশীল করা হয়েছিল। আগামীর সরকার যদি গণতান্ত্রিক সংস্কার কার্যকর করে, তাহলে বাজার শক্তিশালী হবে এবং সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন নিশ্চিত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। এছাড়া উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তৈয়ব চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম ও সোনালী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মুসলিম উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

শেষে বিশেষ অবদানের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।