আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস আজ
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অকার্যকর তথ্য কমিশন
বাংলাদেশের তথ্য কমিশন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যত অচল হয়ে আছে। প্রধান তথ্য কমিশনার, দুই তথ্য কমিশনার এবং সচিব না থাকায় কমিশন কোনো শুনানি বা আর্থিক কার্যক্রম চালাতে পারছে না। এতে অসংখ্য অভিযোগ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় জমে আছে।
গত বছরের জুলাই আন্দোলনের পর ৫ সেপ্টেম্বর প্রধান তথ্য কমিশনার আবদুল মালেক ও কমিশনার শহীদুল আলম ঝিনুক পদত্যাগ করেন। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি কমিশনার মাসুদা ভাট্টি অপসারিত হন। পরে ৩ সেপ্টেম্বর কমিশনের সচিব জুবাইদা নাসরীন-এর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর ফলে কমিশনের শীর্ষ পদগুলো পুরোপুরি শূন্য হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ২ টাকা কমলো জ্বালানি তেলের দাম
তথ্য কমিশনের এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, প্রতিদিন নতুন অভিযোগ জমা হচ্ছে, কিন্তু শুনানি হচ্ছে না। কমিশনের পরিচালকের আর্থিক ক্ষমতা না থাকায় অফিসের অর্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি কর্মকর্তারা নিজেরা চাঁদা তুলে একটি গাড়ি ব্যবহার করছেন।
২০০৯ সালে গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত কমিশনে ৫ হাজার ৩৬০টি অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে ৫ হাজার ২৭১টি নিষ্পত্তি হয়েছে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় ৮০টি ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কমিশন ৫৫ হাজারের বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
আরও পড়ুন: বাণিজ্য মেলায় কারা প্যাভিলিয়ন প্রথম স্থান অর্জন
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, তথ্য কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন দুটিই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন—
কমিশন না গঠন সরকারের দায়িত্বহীনতার অগ্রহণযোগ্য দৃষ্টান্ত। এক বছর পেরোলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বলেছে, শিগগিরই তথ্য কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি হবে। আইন অনুযায়ী কমিশনে থাকবেন এক জন প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই জন কমিশনার, যার মধ্যে অন্তত একজন নারী হতে হবে।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নাগরিকদের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতে অধ্যাদেশ জারি হয়। পরে নবম জাতীয় সংসদ তা অনুমোদন করে। আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে বাংলাদেশ বিশ্বের ২০টি শক্তিশালী তথ্য অধিকার আইনের মধ্যে একটি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তবে সমালোচকরা বলছেন, কমিশনে দলীয় অনুগত ব্যক্তিদের বসানোর কারণে আইন কার্যকর হয়নি, বরং তথ্য গোপনের সংস্কৃতি বহাল থেকেছে।





