যে সরকারই আসুক, চীন–বাংলাদেশ সহযোগিতা অব্যাহত থাকতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ন, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৯ অপরাহ্ন, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভবিষ্যতে যে কোনো সরকার ক্ষমতায় আসুক, বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি। তিনি বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় চীন-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ফোরামের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন। এছাড়া চীন সরকারের অব্যাহত সহায়তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস!

বৈঠকে ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজি’র পরিচালনা পর্ষদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিলং ওং এবং ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেক (সিঙ্গাপুর)’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউচিং ইয়াও বাংলাদেশে তাদের কাজের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহ তুলে ধরেন। এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পিসিভি ও এইচপিভি টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও ইন্দোনেশিয়ায়ও তাদের স্থানীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে মাইক্রোক্রেডিট আন্দোলনের সূত্র ধরে চীনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং জানান, চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে তিনি মানুষের জীবনে পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন, যা পরবর্তীতে চীনের নিজস্ব কর্মসূচির দিকে প্রভাব ফেলেছে।

আরও পড়ুন: সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নেবেন ৩৩০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক

গত বছরের মার্চে চীন সফরের কথা উল্লেখ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “প্রেসিডেন্ট আমাকে জানিয়েছিলেন, আমার বই পড়েছেন এবং নীতিগুলো অনুসরণ করেছেন, যা আমার জন্য আনন্দের মুহূর্ত ছিল।”

বৈঠকে সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্ট চায়না স্কুল অব মেডিসিনের পরিচালক ও খ্যাতনামা বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী সিন-ইউয়ান ফু অধ্যাপক ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসা করেন। এছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের সঙ্গে যৌথভাবে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

চীনা প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটালাইজেশন খাতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের মতবিনিময় তুলে ধরেন।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, শিগগিরই তিনি দায়িত্ব ছাড়লেও বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার চলমান কাজ অব্যাহত থাকা উচিত। বৈঠক শেষে অধ্যাপক ইউনূস ধারাবাহিক সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য চীনা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।