শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নামে দেশে থাকা সব স্থাবর–অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ সোমবার এ রায় ঘোষণা করে।
রায়ে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই অভিযোগে শেখ হাসিনা এবং এক অভিযোগে আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এ দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এ মামলায় অ্যাপ্রুভার হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলে দ্রুত ব্যবস্থা: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী
রায় ঘোষণার সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ছাড়াও জুলাই–আগস্টে নিহত ব্যক্তিদের কয়েকজন পরিবার সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এর পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলাটি দায়ের হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকাজ শুরু করে এবং একই দিন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আরও পড়ুন: ছুটিতেও গুলশান বাসভবন থেকে সরকারি কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী
এ মামলায় মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়—উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। চলতি বছরের ৩ আগস্ট প্রথম সাক্ষী হিসেবে খোকন চন্দ্র বর্মণ আদালতে বীভৎস ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। ৮ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরা শেষে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়।
২৩ অক্টোবর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণের জন্য ১৩ নভেম্বর দিন রাখা হয়। পরে আদালত ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ঠিক করে।
এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো নাশকতা বা হামলার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে গুলিও চালানো হবে।





