মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম এফসিএ-এর মৃত্যুতে বিআইআইটি’র শোক
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি) এর প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি জেনারেল, খ্যাতিমান চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ও প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম আর নেই। তিনি ৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে আড়াইটার দিকে ঢাকার উত্তরায় ইন্তেকাল করেন।
মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিআইআইটি’র মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এম. আবদুল আজিজ। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নেবেন ৩৩০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক
ড. এম. আবদুল আজিজ বলেন, “মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম ছিলেন দেশের ইসলামিক অর্থনীতি, ব্যাংকিং, উন্নয়ননীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি গবেষণার একজন পথিকৃৎ। তার লেখালেখি ও গবেষণার জীবন সমৃদ্ধ ছিল। ইসলামিক অর্থনীতি ও চিন্তাচর্চায় তার অবদান অনন্য। তিনি দেশের ইসলামিক অর্থনীতি গবেষণার বিস্তারে অন্যতম অগ্রদূত ছিলেন। মুসলিম সমাজকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তার দূরদৃষ্টি, নিষ্ঠা ও শ্রেষ্ঠত্ব ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
মোহাম্মদ জহুরুল ইসলামের কর্মজীবন এবং শিক্ষাজীবন ছিল অসাধারণ। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর দেশে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ফাইনান্স ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন, আইসিএবি ও বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন।
আরও পড়ুন: ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস!
তিনি বাংলাদেশ ইসলামিক ইকোনমিকস রিসার্চ ব্যুরো (১৯৭৬) এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ইসলামিক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (১৯৮৩) প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ঢাকা ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই সেন্টার (ডেসা), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজউকের ফিন্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম অর্থনীতি, ব্যাকিং, ফাইন্যান্স, সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ে ১৩টিরও বেশি বই এবং বহু প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার আন্তর্জাতিক গবেষণা, সেমিনার ও সংলাপে অংশগ্রহণে যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের আমন্ত্রণে ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটরস প্রোগ্রামেও অংশগ্রহণ করেন।
সামাজিক সংগঠক ও শান্তি-উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি এশিয়ান মুসলিম অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (আমান)-এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। কানাডায় স্থায়ী হওয়ার পরও কমিউনিটি সেবায় যুক্ত থাকায় ২০১৩ সালে অন্টারিও ভলেন্টিয়ার সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। এছাড়া আশফাক-আজিজ ফাউন্ডেশন, জোবায়দা মসজিদ, আশফাক আজিজ রিসার্চ সেন্টার, আশফাক আজিজ ইসলামিক একাডেমী, আশফাক আজিজ এতিমখানা ও শিক্ষা কেন্দ্র ও মফিজ উদ্দীন সরকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।





