বিলুপ্ত প্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণ করে সেগুলোকে স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ হলে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত ‘পার্বত্য অঞ্চলের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন গবেষণা পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ভাষাশহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা: শুরু হলো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি
উপদেষ্টা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রাণীর অভিযোজন ক্ষমতা পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তিনি বলেন, “কোন অঞ্চলের ছাগল বা মুরগি অন্য এলাকায় কীভাবে খাপ খাইয়ে নেবে, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। শুধু ব্রয়লার ও লেয়ার নয়—দেশীয় জাতের পশু ও পোল্ট্রি সংরক্ষণ ও উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, সময়মতো টিকা প্রদান না করলে পশুর রোগ ছড়িয়ে পড়ে, যা উৎপাদন ও অর্থনীতিতে বড় ক্ষতির কারণ হয়। পশুর ভ্যাকসিনেশন মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের উন্নয়নে শিক্ষিত তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে সম্পৃক্ত করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়লো
বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে খামারিরা প্রাপ্য মূল্য পাচ্ছেন না। মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে, ফলে ডিমের বাজার কমলে খামারিরা আরও বিপাকে পড়েন। দেশীয়ভাবে ভুট্টা ও সয়াবিনের উৎপাদন বাড়িয়ে ফিডে আমদানি-নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দেন তিনি।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআই মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর এবং বান্দরবান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুলহাস আহমেদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী।
এর আগে উপদেষ্টা ‘‘উন্নত প্রযুক্তিতে স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও ভ্যালু অ্যাডেড পোল্ট্রি উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ’’ শীর্ষক খামারি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তিনি বিএলআরআই আঞ্চলিক কেন্দ্রে সংরক্ষিত বিভিন্ন গবেষণাগারের প্রাণীর শেডও পরিদর্শন করেন।
কর্মশালায় বিএলআরআই-এর কর্মকর্তারা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় খামারিরা অংশ নেন।





