টেংরাটিলা বিস্ফোরণে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ন, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:২১ অপরাহ্ন, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশ অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার পেল। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউট’ (ICSID ট্রাইব্যুনাল) কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো রিসোর্সকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমান বাজারমূল্যে এটি প্রায় ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। ট্রাইব্যুনাল নাইকোর অবহেলা ও অদক্ষতাকে দায়ী করে এই অর্থ বাংলাদেশকে পরিশোধের চূড়ান্ত রায় দেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান এ রায়ের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন: সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নেবেন ৩৩০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হলেও ২০০৩ সালে এর অনুসন্ধান ও উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল নাইকো রিসোর্সকে। দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র দুই বছরের মাথায়, ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন, পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। নাইকোর কারিগরি ত্রুটির কারণে এই আগুনে গ্যাসক্ষেত্রের বিশাল মজুদ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। শুধু গ্যাস সম্পদই নয়, আগুনের তাপে আশপাশের গ্রামাঞ্চলের পরিবেশ, ঘরবাড়ি ও গাছপালিরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়।

বিস্ফোরণের পর পেট্রোবাংলা নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও প্রতিষ্ঠানটি তা দিতে বারবার অস্বীকার করে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে গড়ায়। আদালত তার পর্যবেক্ষণে নাইকোর অবহেলা ও কারিগরি ত্রুটিকে গুরুত্ব দিয়ে জরিমানার রায় দেন। মূলত ছাতক পশ্চিম বা টেংরাটিলা অংশের একটি স্তরের গ্যাস পুড়ে গেলেও অন্যান্য স্তর এবং ছাতক পূর্ব অংশের বিশাল গ্যাস মজুদ এখনও অক্ষত রয়েছে। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এই গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য ২ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস!

আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায় কেবল আর্থিক ক্ষতিপূরণই নয়, বরং ভবিষ্যতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর দায়িত্বহীনতা রোধেও বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। নাইকো রিসোর্সকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এই অর্থ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হবে। দীর্ঘ দুই দশক ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার রায় ভুক্তভোগী এলাকার মানুষের মনে স্বস্তি এনেছে।

পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরিমানার অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি মোকাবেলা এবং অক্ষত থাকা গ্যাস স্তরগুলো থেকে নিরাপদ উত্তোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।