ছয় সিটিতে মেয়রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ বিএনপির
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় যাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (১) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট করপোরেশনসমূহে পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠিত না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে এসব নিয়োগ কার্যকর থাকবে। একই অধ্যাদেশের ২৫ক-এর উপধারা (৩) অনুসারে প্রশাসকেরা মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধিমোতাবেক ভাতা গ্রহণ করবেন।
ঢাকায় দুই সিটিতে নতুন দায়িত্ব
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট ডি-এক্টিভেট
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবদুস সালাম। তিনি একসময় অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র ছিলেন এবং বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসক হয়েছেন শফিকুল ইসলাম খান, যিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি।
আরও পড়ুন: দুই মন্ত্রীর পিএস, পাঁচ প্রতিমন্ত্রীর এপিএস নিয়োগ
অন্যান্য চার সিটি
একই প্রজ্ঞাপনে আরও চার সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—
খুলনা সিটি করপোরেশন: নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন: শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন: সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও আইনজীবী নেতা।
সিলেট সিটি করপোরেশন: আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ছাত্রদল-যুবদল নেতা।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচিত মেয়র ও পরিষদ না থাকা অবস্থায় প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এ নিয়োগ।
পটভূমি: অন্তর্বর্তী সরকারের পর নতুন রদবদল
২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচিত মেয়রদের পদচ্যুত করে ‘রাজনৈতিক’ প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আবারও প্রশাসক পদে রদবদল করা হলো।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজনের কথা বললেও, সর্বশেষ নিয়োগ প্রজ্ঞাপন থেকে স্পষ্ট—অন্তত স্বল্পমেয়াদে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাই বহাল থাকছে।
নির্বাচন সূচি ও আইনি প্রেক্ষাপট
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমানে দুটি আসনে উপনির্বাচন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, রোজার মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে এবং দুটি উপনির্বাচন বৈশাখের আগেই সম্পন্ন হতে পারে। তবে কালবৈশাখীর মৌসুমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে অনাগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন কমিশন সংশ্লিষ্টরা।
এ অবস্থায় আইনগত কাঠামোর মধ্যে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সিটি করপোরেশন পরিচালনার সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অন্তর্বর্তী ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করলেও, নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বৈশাখ-বর্ষা মৌসুম অতিক্রমের পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, অধ্যাদেশের ২৫ক ধারার প্রয়োগে ছয় সিটিতে নতুন প্রশাসনিক অধ্যায় শুরু হলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকা পর্যন্ত নগর শাসনে রাজনৈতিক ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা প্রশ্নে বিতর্ক অব্যাহত থাকার আভাস মিলছে।





