পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পল কাপুরের বৈঠক
ঢাকা সফররত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর বুধবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এর আগে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
পরে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ-এর সঙ্গে তার বৈঠক করার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় ও নৈশভোজে অংশ নেওয়ারও কর্মসূচি রয়েছে।
আরও পড়ুন: আগামী সপ্তাহেই বাংলাদেশে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ শীর্ষ ব্যবসায়ী
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পল কাপুরের সফরে দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। সম্প্রতি সই হওয়া বাণিজ্যচুক্তির বাস্তবায়ন এবং প্রস্তাবিত নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তারেক রহমান-কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিনন্দন বার্তায় বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন ও প্রস্তাবিত সামরিক চুক্তি সম্পাদনের ওপর জোর দেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পল কাপুরের বাংলাদেশ সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একগুচ্ছ বার্তা
সফরে অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যচুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পল কাপুরের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লরা অ্যান্ডারসন।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে দুটি বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা চুক্তি—জিসোমিয়া ও আকসা—সই করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। জিসোমিয়া নিয়ে আলোচনা অনেকটাই অগ্রসর হয়েছে বলে জানা গেছে। গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ঢাকা সফর করে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনেও এ নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফেরত আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন আরও প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি।
মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান পল কাপুর। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যেই তার এ সফর।





