গণভোটের আগে সংসদ-সংবিধান সংস্কারে আলোচনার পথেই সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংবিধান সংস্কার বা গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হলে আগে জাতীয় সংসদের পথেই অগ্রসর হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, গণভোটের রায়কে সম্মান জানাতে হলে আগে সংসদে যেতে হবে, সেখানে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে এবং প্রয়োজন হলে নির্ধারিত সাংবিধানিক কাঠামো মেনে নতুন করে শপথ গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৪ কর্মকর্তাকে বদলি করা হলো
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। সংবিধান সংশোধন বা গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে আগে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করতে হবে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি বলেন, “গণভোটের রায়কে সম্মান দিতে গেলে আগে সংসদে যেতে হবে। সংসদে আলোচনা শেষে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সিদ্ধান্ত হবে। সে ক্ষেত্রে যদি নতুন করে শপথ নেওয়ার প্রয়োজন হয়, সেটিও নির্দিষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো মেনেই সম্পন্ন হবে।”
আরও পড়ুন: বিচারপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্তের দাবি
জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি এ সনদের প্রতি শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচনের আগে বা পরে যারা এ বিষয়ে সমালোচনা করেছেন, তারাও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের পর এতে স্বাক্ষর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “যে দল মনে করে নির্বাচনে তাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত হয়েছে, তাদের সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখাও নাজায়েজ। জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট—আমরা এটিকে বাস্তবায়ন করব।”
সরকারের আইন প্রণয়ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা শতাধিক অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ছিল অধ্যাদেশ জারির সরকার। সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাদের জারি করা ১০০টির বেশি অধ্যাদেশ বাধ্যগতভাবে উত্থাপিত হবে। সংসদে আলোচনা করেই সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
উপরাষ্ট্রপতির পদ সংক্রান্ত বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সাংবিধানিক কাঠামোর আলোকে এ বিষয়টিও বাস্তবায়ন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একক সিদ্ধান্তে নয়, বরং সর্বদলীয় আলোচনা ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, “আগে সংসদে আসেন, তারপর গণভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। যতটুকু জাতীয় ঐকমত্য হয়েছে, ততটুকু বাস্তবায়ন করা হবে। সবার আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধনের পথ নির্ধারিত হবে।”
আইনজীবী ফোরামের এ আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, বিএনপির আইনজীবী নেতারা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।





