মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা: এক মাসে ঢাকা থেকে ৮৫৮টি ফ্লাইট বাতিল, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:৩৫ অপরাহ্ন, ২৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, ৩০ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েতসহ সাতটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় গত এক মাসে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৮৫৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থা ২৯ মার্চ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রী।

আকাশসীমা বন্ধের প্রভাব

আরও পড়ুন: আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংস্কারের জন্য এসেছি: নাহিদ ইসলাম

নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী এবং মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপ ও আমেরিকাগামী ফ্লাইটগুলো বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।

এক মাসের পরিসংখ্যান

আরও পড়ুন: চার বছরের মধ্যে ‘ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করবে সরকার

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

সর্বোচ্চ বাতিল: ২ মার্চ একদিনেই ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

ধারাবাহিকতা: মার্চের প্রথম সপ্তাহে বাতিলের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। ১ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৩৫টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

মোট বাতিল: এক মাসে মোট ৮৫৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

৩০ মার্চের সর্বশেষ অবস্থা

আগামী ৩০ মার্চ ২০২৬ (০০০০ LT পরবর্তী) তারিখের জন্যও ইতোমধ্যে ১৮টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হওয়া এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে রয়েছে:

এয়ার অ্যারাবিয়া ও কাতার এয়ারওয়েজ: ৪টি করে

জাজিরা এয়ারওয়েজ: ৪টি

কুয়েত এয়ারওয়েজ, গালফ এয়ার ও এমিরেটস: ২টি করে

ফ্লাইট বাতিলের কারণে প্রতিদিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক হাজার যাত্রী ভিড় করছেন। বিশেষ করে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে টিকিট কাটা প্রবাসীদের মধ্যে ভিসা ও আকামার মেয়াদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

যদিও অনেক এয়ারলাইন্স রিফান্ড বা ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ দিচ্ছে, তবে আবাসন ও যাতায়াত ব্যয়ের চাপ যাত্রীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত না করা পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়া কঠিন। যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।