এপ্রিলে বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৪৯ অপরাহ্ন, ৩১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৭:২৬ অপরাহ্ন, ৩১ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও দেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো এপ্রিলেও পেট্রল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিন আগের দামেই বিক্রি হবে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ঘোষণায় বলা হয়েছে, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা অপরিবর্তিত থাকবে। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও একই দামে এসব জ্বালানি বিক্রি হয়েছে। এর আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ধাপে ধাপে প্রতি লিটারে মোট ৪ টাকা কমানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন: আকস্মিক সাক্ষাতে পদোন্নতি বঞ্চিত চিকিৎসকদের কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৪ সালের মার্চ থেকে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করে। এ ব্যবস্থায় আগের মাসের আমদানি ব্যয়ের ভিত্তিতে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হয়।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, অকটেন ও পেট্রল মূলত ব্যক্তিগত যানবাহনে ব্যবহৃত হওয়ায় এগুলোকে তুলনামূলকভাবে বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই সাধারণত ডিজেলের তুলনায় এ দুই জ্বালানির দাম বেশি রাখা হয়।

আরও পড়ুন: স্কুলকেন্দ্রিক যানজট কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের বর্তমান মূল্যের বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও আমদানি ব্যয় প্রায় ১৯৮ টাকা। ফলে দাম সমন্বয় না করায় এক মাসেই প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতে পারে সরকারকে।

সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) জানিয়েছেন, গত এক মাসে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৯৮ শতাংশ। একইভাবে, অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও এর আমদানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০ টাকা ৭২ পয়সা।

উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অন্যদিকে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্বাহী আদেশে নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।