ঈদে আড়াই কোটি যাত্রী, এক কোটি গরু-ছাগল, নজিরবিহীন চাপের সতর্কতা দিলেন সড়কমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:১৯ অপরাহ্ন, ০৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ১১:২১ অপরাহ্ন, ০৪ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল আজহায় সড়কে নজিরবিহীন চাপের আশঙ্কা তুলে ধরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি জানিয়েছেন, এ বছর প্রায় আড়াই কোটি যাত্রী এবং এক কোটি গরু-ছাগল পরিবহন হবে। এই অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলায় সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন শেষে ব্রিফিংয়ে সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, “এবার ঈদে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে। পাশাপাশি এক কোটি গরু-ছাগল পরিবহন হবে। ফলে সড়কে চাপ অনেক বেশি থাকবে, এটাকে আমরা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি।”

আরও পড়ুন: পানির নিচে প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট পাউবো ও হাওর বোর্ডের

মন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আগাম পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং গত ঈদুল ফিতরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “গত ঈদে কিছু জায়গায় চাপ থাকলেও সার্বিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে যান চলাচল তুলনামূলক ভালো ছিল।”

চন্দ্রা এলাকায় যানজটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, যমুনা সেতুর প্রবেশপথ সরু হওয়ায় সেখানে চাপ বেশি পড়ে। “ঈদের সময় প্রতিদিন প্রায় ৫১ হাজার যানবাহন পারাপার হয়েছে। পুরোপুরি স্থবিরতা তৈরি না হলেও থেমে থেমে চলেছে। এবার ওই এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

মন্ত্রী আরও স্বীকার করেন, গত ঈদে পণ্যবাহী যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি ছিল। “ট্রাক, লরি ও কাভার্ডভ্যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মাঠপর্যায়ে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এবার এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে,” জানান তিনি।

সড়কে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ অপরাধ। যারা এতে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সড়ক উন্নয়ন বাজেটের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “সারা দেশে সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার চাহিদা থাকলেও বাস্তবে বরাদ্দ পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প নির্বাচন করতে হচ্ছে।”

মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য মহাসড়ককে নিরাপদ করা। তবে অসংখ্য সংযোগ সড়ক থাকায় এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। ধাপে ধাপে এ বিষয়ে কঠোরতা বাড়ানো হবে।”

এছাড়া ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা রোধে জেলা প্রশাসন, রেলওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।

সবশেষে সড়কমন্ত্রী বলেন, “চ্যালেঞ্জ বড়, কিন্তু আমরা প্রস্তুত। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ঈদযাত্রা সহনীয় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।”